প্রেমিকাকে হত্যার বর্ণনা দিলেন প্রেমিক

প্রকাশিত

যশোর প্রতিনিধি- যশোরে পরকীয়া প্রেমের জেরে গৃহবধূ কল্পনা বেগম খুনের ঘটনায় প্রেমিক রুবেল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় কল্পনার ব্যবহৃত স্বর্ণের চেন ও কানের দুল উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার শহরের ঘোপ এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করে। আদালতে রুবেল হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

রুবেল সদর উপজেলার পুলেরহাট-মন্ডলগাতি গ্রামের মৃত তরিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি যশোর শহরের মণিহার এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন।

জবানবন্দিতে রুবেল আদালতকে জানান, চৌগাছা উপজেলার কাকুড়িয়া-নওদাপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের মেয়ে কল্পনা বেগম দুই মেয়ে নিয়ে যশোর শহরতলীর কিসমত নওয়াপাড়া হাইওয়ে মডেল টাউনে আনিছুর রহমানের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

এ সময় রুবেল হোসেনের সঙ্গে কল্পনা বেগমের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর জেরে রুবেল প্রায়ই কল্পনার বাসায় যাওয়া-আসা করতেন। রুবেলেরও বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান রয়েছে।

গত ২২ আগস্ট রাতে রুবেল কল্পনার বাসায় যান। সেখানে রুবেল এবং কল্পনা ইয়াবা এবং মদ পান করেন। পরদিন রুবেল বাড়িতে স্ত্রী-সন্তানকে দেখার জন্য যেতে চান। কিন্তু কল্পনা তাকে যেতে দিতে রাজি হয়নি। ফলে দুজনের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়।

২৪ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় হাতের কাছে পেয়ে একটি স্লাইড রেন্স দিয়ে কল্পনার মাথায় আঘাত করেন রুবেল। এতে কল্পনা মাটিতে পড়ে যান।

পরে আবার মাথায় আঘাত করলে মারা যান কল্পনা। এরপর তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রেখে কল্পনার মেয়েকে ডেকে আত্মহত্যার কথা বলে রুবেল পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে রুবেলকে আসামি করে পরদিন কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন।

সোমবার সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই ফারুক হোসেন ঘোপ এলাকা থেকে রুবেলকে আটক করেন। পরে আদালতে সোপর্দ করা হলে কল্পনাকে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন রুবেল।