ফরিদপুরের ভাঙ্গায় স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় স্ত্রী-সন্তানকে ঘর ছাড়া

প্রকাশিত
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা : ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় স্বামীর পরকিয়ায় বাধা ও বারবার যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রী শামিমা নাসরিন(২৬)কে কোলের শিশু সহ বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে পাষন্ড স্বামীর নাম একে এম জাহিদুর রহমান বাদল । সে উপজেলার নাজিরপুর সরঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের  সহকারী শিক্ষক।
বাদল হরুপদিয়া গ্রামের আঃ সত্তার মাতুব্বরের পুত্র। স্ত্রী পাশের ফুকুরহাটি গ্রামের গোলাম আহম্মেদ খাঁন এর কন্যা।
স্বামী তাড়িয়ে দিয়েই ক্ষান্ত হননি সে প্রভাবশালী হওয়ায় উল্টো স্ত্রী ও শশুরের নামে নিজে ও তার সাঙ্গপাঙ্গ দিয়ে  একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। স্ত্রী শামীমা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে কোন উপায়ন্ত না পেয়ে ফরিদপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২নং আমলী আদালতে মামলা করে।
মামলার খবর শুনে পাষন্ড স্বামী গত ৬ই ডিসেম্বর তালাকনামা পাঠিয়ে দেয়। মামলায় জামিনে এসে জাহিদ মামলা উঠিয়ে নেয়ার জন্য বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিচ্ছে। শামীমা তার শিশু পুত্র নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করিতেছে।
জানা যায়,গত ১০ই জুন ২০১৪ সালে পাশাপাশি গ্রামের স্কুল শিক্ষক জাহিদের সহিত শামিমার বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকে মাঝে মাঝে যৌতুকের টাকার জন্য মারধর করতে থাকে। হয়তবা সংসার করলে ভাল হবে বলে সংসার করতে থাকে শামিমা।এরই মধ্যে ২০১৬ সালে এক পুত্র সন্তান হয়। এর পর জাহিদ মাষ্টার পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়ে। রাতে কোন দিন ঘরে ফিরে,কোন দিন নাও ফিরে। স্ত্রী জানতে চাইলে তার উপর শুরু হয় অমানুষিক নির্যাতন । সহ্য করতে না পেরে বাবার বাড়ী চলে যায় স্ত্রী।কিন্তু সন্তান হয়েছে বলে শামিমার বাবা-মা বুঝিয়ে আবার স্বামী বাড়ী পাঠিয়ে দেয়। এ ভাবেই নির্যাতনের মধ্য দিয়ে সংসার করে সে।
এ দিকে শামিমা নাসরিন বলেন, আমার স্বামী জাহিদ এটি আই পরীক্ষা দিয়ে প্রমোশন হবে বলে টাকার জন্য চাঁপ প্রয়োগ করে।আমার কান্নাকাটিতে বাবার এক টুকরা জমি বিক্রি করে ৫ লক্ষ টাকা দেয়া হয় জাহিদের হাতে। তার পরও তার পরকিয়া ফিরাতে পারিনি। জাহিদ প্রতিদিন সকালে বাড়ী থেকে বের হয়ে মধ্যরাতে ঘরে ফেরে, জিজ্ঞেস করলে তখনই শুরু করে মারধর । এতো নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাবার বাড়ী চলে আসি।এখন প্রতিনিয়ত এসিড মারার হুমকি দিচ্ছে, ছেলেকে সরিয়ে গুম করে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে। বিভিন্ন মানুষ দিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমার বাবাকে হয়রানি করছে, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।