ফারুক হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ আবার পেছাল

প্রকাশিত

টাঙ্গাইল প্রতিবেদক: আবার অসুস্থ থাকায় মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলায় আদালতে হাজির করা হয়নি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে।

সোমবার চাঞ্চল্যকর এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ থাকলেও অসুস্থতার কারণে রানাকে হাজির না করায় সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়নি। এ নিয়ে চারবার আমানুর রহমান খান রানা হাজির না হওয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণের নির্ধারিত তারিখ পেছাল। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছে আদালত।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মনিরুল ইসলাম খান জানান, আজ সোমবার টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর মিয়ার আদালতে বিচারাধীন মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সাক্ষীর জন্য মামলার বাদী নিহত ফারুক আহমেদের স্ত্রী নাহার আহমেদ, ছেলে আহমেদ মজিদ সুমন ও মেয়ে ফারজানা আহমেদ মিথুনের হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল। কারাগারে আটক আসামি আনিসুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, মো. সমিরকে আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা আসামি মাসুদুর রহমান, ফরিদ আহম্মেদ ও নাসির উদ্দিনও হাজির হন।

কিন্তু ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার মো. জাহাঙ্গীর কবির স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আদালতকে জানানো হয়, সংসদ সদস্য আমানুর ফিষ্টুলা, হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিক, প্রোস্টেট, কোমর ব্যথাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি ভ্রমণের অনুপযুক্ত হওয়ায় তাকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হচ্ছে না। পরে বিচারক মো. আবুল মনসুর মিয়া আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন।

চাঞ্চল্যকর এ মামলার প্রধান আসামি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে অসুস্থতার কারণে আদালতে হাজির না করায় আটবার অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে যায়। অবশেষে ৬ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠন করা হয়। আলোচিত এই মামলায় সংসদ সদস্য রানা ছাড়াও তার তিন ভাই- টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাঁকন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ ১৪ জন আসামি রয়েছেন।

২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়ার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৪ সালের আগষ্টে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে এই হত্যায় সংসদ সদস্য রানা ও তার ভাইদের নাম আসে। ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।