ফিরে দেখা: সঙ্গীতময় একটি বছর

প্রকাশিত

এ বছর সঙ্গীতাঙ্গণ ছিল সঙ্গীতমুখর। নতুন ও পুরনো শিল্পীদের একের পর এক গানে দর্শক-শ্রোতাদের মাতিয়েছে। এছাড়া শুধু অডিও গানই নয়, সঙ্গে গানের মিউজিক ভিডিও প্রকাশ এবং তাতে বৈচিত্র আনারও ব্যাপক উদ্যোগ এ বছর পরিলক্ষিত হয়। ইউটিউব ও শিল্পীদের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে গান ও মিউজিক ভিডিও বেশ জনপ্রিয়তা পায়। অর্থাৎ গান শোনার পাশাপাশি গল্পের মাধ্যমে এর মিউজিক ভিডিও দেখার ভীত এবছর শক্ত হয়ে উঠে। গানের পাশাপাশি শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবন এবং মৃত্যুরও বছর ছিল এটি।
একাধিক ব্যবসাসফল গান নিয়ে পুরো বছর জুড়ে রাজত্ব করেছেন আসিফ, হাবিব, এফ এ সুমন, ইমরান, সায়েরা রেজা, মিনারের মত তারকা শিল্পীরা। আসিফ-মোহনার এই শোনো, প্রেমের নদী,আসিফ-কণার পূজারিনী, আসিফ-কর্ণিয়ার কি করে তোকে বোঝাই, শিরোনামের দ্বৈত গানগুলো শ্রোতাদের মধ্যে আলোড়ন তোলে। এছাড়া আসিফের একক কণ্ঠের আগুন গানটিতে নতুন আসিফকে আবিস্কার করেন শ্রোতারা। নতুন গান নিয়ে একের পর এক মিউজিক ভিডিও এবং তাতে ব্যতিক্রমী চরিত্রেও পারফরম করেন তিনি। স্ত্রী রেহানকে ডিভোর্স কিংবা মডেল তানজিন তিশার সাথে ব্রেকআপে হাবিবের সংগীত ক্যারিয়ারে তেমন কোন প্রভাব পড়েনি। তার গাওয়া ঘুম, মিথ্যে নয় এবং ন্যান্সির সাথে গোলাপের দিন গানগুলো বেশ শ্রোতাপ্রিয়তা পায়। এফ এ সুমন তার ভক্ত শ্রোতাদের জন্য মন বড় বেঈমান, আসমানীসহ একাধিক সিঙ্গেল ট্রাক উপহার দিয়েছেন। মন খারাপের দেশে ও ধোঁয়া শিরোনামের ব্যয়বহুল গানে ইমরান তার স্বকীয়তা বজায় রেখেছেন। নিদাগীরে, কেমন করে পত্র লিখিরে, ধান্ধা শিরোনামের গান নিয়ে বছরজুড়ে শ্রোতাদের কাছাকাছি থেকেছেন সায়েরা রেজা। বছরের শেষের দিকে এসে ধার ধারিনা-২ গান দিয়ে আলোচনায় এসেছেন তিনি। দেয়ালে দেয়ালে কিংবা চোখ শিরোনামের দুটি গানে মিনার তার অবস্থান ধরে রেখেছেন। কাঙ্গালিনী সুফিয়ার ভুলি ভুলি কেমনে এবং পঁচিশ বছরের দীর্ঘ বিরতিতে মুজিব পরদেশীর গাওয়া জোনাক গানটি ছিল সঙ্গীতাঙ্গনে উল্লেখযোগ্য সংযোজন। ধ্রæব গুহের একলা পাখি, সামিনা চৌধুরী ও বেলাল খানের কণ্ঠে পিপীলিকা, পারভেজের আল্লাহ, রাফাতের মাটির মানুষ, কণা-জুয়েল মোর্শেদের গার্ডেন গার্ডেন, শানের কন্যারে, তাহসানের অপ্রাপ্তি, শহীদ-স্বরলীপির এতদিন কোথায় ছিলে, ইলিয়াস-অরিনের না বলা কথা, পূলকের পিয়ারী শ্রোতাপ্রিয়তা পায়। মনির খান, বাদশা বুলবুল, বেবী নাজনীন, ডলি শায়ন্তনীর মত সিনিয়র শিল্পীদের গানও সমানতালে চলে। উদীয়মান প্রতিশ্রæতিশীলদের মধ্যে শিল্পী বিশ্বাসের রঙ্গিলা কইতর,ঐশীর চিন্তা, লুইপার আপনার চেয়ে আপন যেজন, তিথীর কবিতা পড়ার প্রহর, লগ্নার দেহতরী, নিলয়-মোহনার একটা জীবন গানগুলো আলোচনায় ছিল। ইভা রহমানের নতুন কোন গান আলোচনায় না থাকলেও ড.মাহফুজুর রহমানের শিল্পী পরিচয় ছিল সঙ্গীতে অন্যতম আলোচনার বিষয়। একাধিক গান নিয়ে সুস্মিতা আনিস পুরো বছর জুড়েই সরব ছিলেন। গীতিকার-সুরকার প্লাবন কোরেশীর ইস্কুলে যাবনা গানটিতে শ্রোতারা ভিন্নতার স্বাদ পেয়েছেন। প্রাপ্তির এই বছরটিতে কয়েকটি মৃত্যু শ্রোতাদের শোকাচ্ছন্ন করেছে। লাকী আখন্দ, আব্দুল জব্বার, বারী সিদ্দিকীর মৃত্যু শ্রোতাদের শোকাতুর করে তোলে। পাশাপাশি তাহসান কিংবা মিলার মত তারকা শিল্পীদের সংসারভাঙ্গায় শ্রোতারা আহত হয়েছেন। কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সুরকার আলম খান, কণ্ঠশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ, সাবিনা ইয়াসমিন, আব্দুল হাদীর মত বরেণ্য শিল্পীদের আজীবন সম্মান জানানোর বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখেছে বোদ্ধামহল। সব মিলিয়ে একটা সুরেলা বছর পার করেছে বাংলাদেশ। নতুন বছরেও এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে সেই প্রত্যাশা সংগীত প্রেমীদের।

Be the first to write a comment.

Leave a Reply