বগুড়ায় তিন পুলিশের নামে চাঁদাবাজি মামলা

প্রকাশিত

বগুড়ায় প্রতারণার মাধ্যমে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে তিন পুলিশ কর্মকর্তাসহ আটজনের নামে আদালতে মামলা করা হয়েছে। গত সোমবার বিকেলে বগুড়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন জেলা সদরের বুজরুকবাড়িয়া গ্রামের সিরাজ প্রামাণিকের ছেলে শাহ আলম প্রামাণিক। আদালতের বিচারক শ্যামসুন্দর রায় বাদীর অভিযোগ রেকর্ড করে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেন।

মামলার আসামিরা হচ্ছেন বগুড়া শহরের নারুলী পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম, উপপরিদর্শক আব্দুর রশিদ, সহকারী উপপরিদর্শক জাহাঙ্গীর হোসেন, তাঁদের সহযোগী বগুড়া সদরের বুজরুকবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল বাছেদ, তাঁর স্ত্রী শাহনাজ বেগম, ছেলে শাওন, পালিত মেয়ে নাজমুন ও শহরের দক্ষিণ ধাওয়াপাড়ার ইমান হোসেন সাজু।

মামলার বাদী শাহ আলম অভিযোগে উল্লেখ করেন, মামলার আসামি শাহানাজ গত ১৮ আগস্ট সন্ধ্যায় বাড়িতে স্যানিটারি কাজ করানোর কথা বলে তাঁকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর তাঁর স্বামী আব্দুল বাছেদ ও অন্য আসামি ইমান হোসেন সাজু মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাঁকে ঘরে আটকে রাখে। পরে আব্দুল বাছেদের পালিত মেয়ে নাজমুনকে ডেকে নিয়ে তাঁদের নগ্ন করে মোবাইল ফোনে ছবি তোলা হয়। এ সময় শাহ আলম কান্নাকাটি শুরু করলে বাছেদের ছেলে শাওন তাঁর কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে ধর্ষণ মামলা দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এরপর শাহ আলমের স্ত্রীকে ডেকে এনে নগদ ২০ হাজার টাকা নেওয়াসহ অবশিষ্ট ৮০ হাজার টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে দেওয়ার অঙ্গীকার করলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি কাউকে জানাননি শাহ আলম।

এক সপ্তাহ পর ২৬ আগস্ট শাহ আলমের বাড়িতে গিয়ে অবশিষ্ট ৮০ হাজার টাকা দাবি করেন বাছেদ। তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে মামলার অন্য আসামি বগুড়ার নারুলী পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম, উপপরিদর্শক আব্দুর রশিদ, সহকারী উপপরিদর্শক জাহাঙ্গীর হোসেন শাহ আলমের বাড়িতে উপস্থিত হন। পুলিশ সদস্যরা আসামিদের পক্ষ নিয়ে ৮০ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য শাহ আলমকে চাপ দেন। টাকা না দিলে তাঁকে ধরে নিয়ে ধর্ষণ মামলায় জড়ানোর ভয় দেখানো হয়। পরে শাহ আলমের বৃদ্ধ বাবা সিরাজ প্রামাণিক বাড়ির গাভি, ছাগল, হাঁস-মুরগি কম দামে বিক্রি করে উপপরিদর্শক আব্দুর রশিদের হাতে ৪৫ হাজার টাকা তুলে দেন। অবশিষ্ট ৩৫ হাজার টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে ফাঁড়িতে দিয়ে আসার নির্দেশ দিয়ে চলে যায় পুলিশ।