‘বন্দুকযুদ্ধে’ কুষ্টিয়া ও ময়মনসিংহে নিহত ২

প্রকাশিত

কুষ্টিয়া ও ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : কুষ্টিয়া ও ময়মনসিংহে পুলিশের সঙ্গে তথাকথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুইজন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

সোমবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুষ্টিয়ায় এবং রবিবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে এ দু’টি বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

কুষ্টিয়ায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শহর আলী নামে ১২ মামলার এক আসামি নিহত হয়েছেন।

পুলিশের দাবি, নিহত শহর আলী জেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন থানায় ১২টি মাদকের মামলা রয়েছে। শহর আলী কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর এলাকার মনোয়ার বক্সের ছেলে। এ ঘটনায় ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে শহরতলীর শেখ রাসেল সেতুর নিচে এ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি নাসির উদ্দিন জানান, শহরের হরিপুর-কুষ্টিয়া সংযুক্ত রাসেল সেতুর নিচে একদল মাদক ব্যবসায়ী মাদক কেনা-বেচা করছে এমন সংবাদ পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

জবাবে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। ‘বন্দুকযুদ্ধের’ এক পর্যায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ। তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পরে পুলিশ জানতে পারে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ব্যক্তি জেলার তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী শহর আলী। তার বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন থানায় ১২টি মাদকের মামলা রয়েছে। পুলিশের দাবি, তারা ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশী ওয়ান শুটারগান, ৩ রাউন্ড গুলি ও ৬ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করেছে।

বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানার এসআই আতিকুর রহমানসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশ নিহতের মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে বলে জানান ওসি।

এছাড়া ময়মনসিংহ সদর উপজেলার শহরতলীতে পুলিশের হাত থেকে পলাতক আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। নিহতের নাম আহসান উল্লাহ খান নোমান (৪০)।

রবিবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে সদর উপজেলার ৭নং চরনিলক্ষীয়া ইউনিয়নের রঘুরামপুর এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

পুলিশের দাবি, নিহত নোমান নগরীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ছিল। তার বিরুদ্ধে মাদকসহ ১৪ টিরও বেশি মামলা রয়েছে। এছাড়াও তিনি পুলিশের কাছ থেকে পলাতক এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন। নোমান নগরীর সেনবাড়ী এলাকার মঞ্জুরুল হক খানের ছেলে।

কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মাহমুদুল হাসান জানান, পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়া ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আহসান উল্লাহ খান নোমান উপজেলার চরনিলক্ষীয়া ইউনিয়নের রঘুরামপুর এলাকায় অবস্থান করছে এমন সংবাদ আসে। এর ভিত্তিতে ওই স্থানে পুলিশের একটি দল পৌঁছালে নোমানের লোকজন তাদের লক্ষ্য করে ইট, পাটকেল নিক্ষেপসহ এলোপাথাড়ি গুলি করে। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে উভয়ের পক্ষের গুলাগুলির মাঝে পরে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী নোমান গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নোমানকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, আহসান উল্লাহ খান নোমান পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়া ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মাদকসহ ১৪টিরও বেশি মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্র দুটি চাপতি, একটি চাইনিজ ছুড়ি ও ৪৫০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।