বন্দুকযুদ্ধে’ পাঁচ জেলায় নিহত ছয়

প্রকাশিত

ডেস্ক : নড়াইল, নারায়ণগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরে র‌্যাব-পুলিশের সঙ্গে তথাকথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ চারজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া যশোরের মণিরামপুরে দুই দল ডাকাতের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ফলে পাঁচ জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন ছয়জন।

র‌্যাব ও পুলিশের দাবি, নিহতরা ডাকাত দলের সদস্য। তাদের নামে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে।

সোমবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার (২৪ জুলাই) ভোর পর্যন্ত এসব বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

নড়াইল : লোহাগড়ায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একজন নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার ভোররাত ৩টার দিকে লোহাগড়ার কচুবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিক নিহতের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থল থেকে ওয়ান শুটারগান, দুই রাউন্ড গুলি, দুটি ধারালো অস্ত্র ও একটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়।

লোহাগড়া থানার ওসি প্রবীর কুমার বিশ্বাস জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর আসে কচুবাড়িয়া এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে একদল ডাকাত। ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল গেলে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে ডাকাতরা। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। উভয়পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময়ের একপর্যায়ে এক ডাকাত গুলিবিদ্ধ হন। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় লোহাগড়া থানার এসআই মাহফুজুল হাসান, এএসআই প্রলয় চক্রবর্তী, কনস্টেবল মুরাদ ও টিটু আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে লোহাগড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় র‌্যাবের সঙ্গে তথাকথিত বন্দুকযু‌দ্ধে আলমগীর হোসেন নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছে ২ র‌্যাব সদস্য।

মঙ্গলবার (২৪ জুলাই) ভোরে উপজেলার পিরোজপুর চেঙ্গাকান্দি আগমন সিএনজি স্টেশনের পাশে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র গুলি ও ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে র‍্যাব।

র‍্যাব ১১ এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) বিল্লাল হোসেন জানান, নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর সময় ভোরে সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর চেঙ্গাকান্দি আগমন সিএনজি স্টেশনের পাশ থেকে আলমগীর ও তার সহযোগীরা র‍্যাবের উপর হামলা ও গুলি চালায়। র‍্যাবও পাল্টা গুলি ছুঁড়লে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় আলমগীর। এ সময় র‍্যাব ১১ এর হাবিলদার হাবিবুর রহমান ও কনস্টেবল মিজান তালুকদার আহত হন।

তিনি জানান, আলমগীরের নামে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মাদক মামলা ১০টি। ঘটনাস্থল থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও ১৫শ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ : শিবগঞ্জ উপজেলায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অজ্ঞাত পরিচয়ে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

র‌্যাব-৫ সূত্র জানায়, দিবাগত রাত দেড়টার দিকে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক ডাকাত নিহত হয়েছেন। গোলাগুলির সময় দুই র‍্যাব সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সালাউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনার আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। নিহতের লাশ বর্তমানে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।

নাটোর : নাটোরের লালপুর র‍্যাবের সঙ্গে তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

সোমবার মধ্যরাতে লালপুর উপজেলার বিজয়পুর এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

র‍্যাবের ভাষ্যমতে, লালপুরে নিহত আহাদুল ইসলাম চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী।

র‍্যাব-৫ নাটোর ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর শিবলী মোস্তফা জানান, র‍্যাবের একটি নিয়মিত টহল দল সোমবার মধ্যরাতে লালপুর উপজেলার বিজয়পুর এলাকায় টহল দিচ্ছিল। এ সময় সেখানে কয়েকজন ব্যক্তির উপস্থিতি টের পেয়ে সেদিকে অগ্রসর হলে তারা র‍্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। র‍্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে অন্যরা পালিয়ে যায়। র‍্যাব সদস্যরা সেখান থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলি ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।

যশোর : যশোরের মণিরামপুরে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, নিহত দুই ব্যক্তি ডাকাতদলের সদস্য। দুই দল ডাকাতের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তাদের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাতে লাশ দু’টি উদ্ধার করা হয়।

মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকাররম হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সাতক্ষীরাগামী একটি পরিবহন পুলিশ পাহারায় পার করে দিয়ে আসার পর গাঙ্গুলিয়া আমতলা মোড়ে পৌঁছালে গুলির শব্দ শুনতে পান খেদাপাড়া ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আইনুদ্দিন। তখন তিনি রোহিতা বাজারের দিকে খানিকটা এগিয়ে দেখেন কিছু লোক পালিয়ে যাচ্ছে। ওইসময় রাস্তার দু’পাশে দু’টি লাশ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। পরে অতিরক্ত পুলিশ গিয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে সকাল ছয়টার দিকে মর্গে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে চারটি দা, দু’টি রশি ও একটি করাত উদ্ধার হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুই দল ডাকাতের মধ্যে গোলাগুলিতে তাদের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের একজনের পরনে চেক শার্ট ও প্যান্ট ছিল। অপরজনের বয়স পরনে প্রিন্টের শার্ট ও লুঙ্গি ছিল। তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।