ববি সব দিক থেকেই ‘সুপার্ব’ : রণবীর

প্রকাশিত

বিনোদন ডেক্সঃ ববির হোম প্রোডাকশনের ছবি ‘বিজলী’তে অভিনয় করেছেন টলিউডের মডেল ও অভিনেতা রণবীর। যিনি রণজয় বিষ্ণু নামেও পরিচিত। ইতোমধ্যে ‘বিজলী’ ছবির পার্টি পার্টি পার্টি’ গানটির মাধ্যমে নজর কেড়েছেন রণবীর। গানের ঝলকে ফুটে উঠেছে ববির সঙ্গে তার রসায়নের ঝলক। রণবীরের ক্যারিয়ার শুরু ২০০৯-১০ সালে ‘সাঁঝবেলা’ ধারাবাহিক দিয়ে। এরপর ‘তোমার জন্য’তে অভিনয় করেন ২০১১-১২ সালে। এরপরেই মুম্বাই চলে যান রণবীর। সেখানে একাধিক টেলিসিরিজে অভিনয় করেন। কিন্তু একটা সময় পরে টেলিভিশন থেকে বেরিয়ে আসেন। মঙ্গলবার মুঠোফোনে কথা হয় রণবীরের সঙ্গে। ‘বিজলী’ সিনেমা এবং অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে তার অভিব্যক্তি জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে।
কেমন আছেন?
হুম…সব ঠিকঠাক। ভালো আছি। আপনারা সব ভালো?
হ্যাঁ, ভালো। বলিউড এবং টলিউড মিলিয়ে সাম্প্রতিক ব্যস্ততা কী নিয়ে?
বলিউড নির্মাতা বিক্রম ভাটের ওয়েব সিরিজে কাজ শেষ করে এই মুহূর্তে কলকাতায় আছি। এখানে একটি ছবির শুরু হওয়ার কথা ফেব্রুয়ারিতে। সেটার কিছু কাজ নিয়ে ব্যস্ত। আর নতুন বছরে কলকাতা ও মুম্বাইতে প্রচুর নতুন ব্রান্ড লঞ্চ হয়। সে রকম দুটো বড় ব্রান্ডের (এখনই নাম প্রকাশ করা বারণ আছে) শ্যুট হতে চলেছে শিগগির-ই।
ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের সাথে ‘অন্বেষণ’ ছবির খবর বলুন…
‘অন্বেষণ’ ছবির কাজও খুব দ্রুত শুরু হবে। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত একজন বড় মাপের অভিনেত্রী, কলকাতায় তাকে লিজেন্ড বলা যেতে পারে। ছবিতে ওনার শিডিওল নিয়ে কিছু সমস্যা হচ্ছে। সব ঠিক হলে ‘অন্বেষণ’ আবার শুরু হবে।
প্রথমবার ঢাকার ছবিতে অভিনয় করলেন, অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
প্রশ্নটা যখন করলেনই তাহলে বিস্তারিতই বলি… কলকাতা কিংবা ঢাকার মধ্যে আমি খুব একটা পার্থক্য পাই না। দেশভাগটা তো খুব বেশিদিন আগে হয়নি। এর আগে তো আমরা একসাথেই ছিলাম। আমি খুব একটা অমিল পাই না। কিছু মানুষের উল্টা-পাল্টা কথায় এই সম্পর্কটা কখনই খারাপ হতে পারে না। ভালো খারাপ সবজায়গাতেই আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু বোকা লোক অদ্ভূত আলোচনা সৃষ্টি করে। সে সূত্র ধরেই অনেকে ভাবেন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কটা বুঝি খুব খারাপ। এটা একদমই ভুয়ো। বেশিরভাগ মানুষ ভালো দিকগুলোরই প্রশংসা করে। এই কথাগুলো এজন্যই বললাম কারণ গানটি (পার্টি-পার্টি-পার্টি) যখন আপলোড হল এতটাই প্রশংসা পেয়েছি বাংলাদেশে থেকে যে, আমি ভীষণ… ভীষণ… উচ্ছ্বসিত। এছাড়া বাংলাদেশে কাজের সূত্রে যাদের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল তাদের আন্তরিকতায় আমি মুগ্ধ। সবসময় আমার নিজের মনে হয়েছে। একদমই বানিয়ে বলছি না। আমি যা সত্যিই অনুভব করেছি তাই বলছি।
সহশিল্পী হিসেবে ববির সাথে আপনার রসায়ন…
আমাদের রসায়ন নিয়ে দর্শক ভালো বলতে পারবেন। আমার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছে। ববিও হয়তো একই কথা বলবে। ববি এই ছবিটি প্রযোজনাও করেছে। কিন্তু প্রযোজকদের যেমন অ্যাটিটিউড থাকে ববির মধ্যে আমি সেটা কোনোদিনই পাইনি। সে খুবই সরল ও ভালোমনের একটি মেয়ে। ববি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত একজন অভিনেত্রী। সব দিক থেকেই সে সুপার্ব।
বাংলাদেশের ছবিতে নিয়মিত হওয়ার ইচ্ছে আছে?
অবশ্যই ইচ্ছে আছে। সত্যি কথা বলতে দু’এক জায়গায় কথাও হয়েছে। বিস্তারিত এই মুহূর্তে বলা যাবে না। কারণ চুক্তিবদ্ধ হওয়ার আগে এসব বলা বারণ। বাংলাদেশের মানুষ যদি আমাকে পছন্দ করেন, ভালোবাসা দেন তাহলে কাজ করতে চাই।
বাংলাদেশের ছবি নিয়মিত দেখা হয়?
মূলধারার বাংলাদেশি ছবির তুলনায় নাটক প্রচুর দেখি। তিশা ইজ ফ্যান্টাস্টিক, টু গুড। জয়াদি (জয়া আহসান) তো এখানে এসে নিজেই কাজ করছেন। তাকে নিয়ে আলাদা করে তো কিছু বলারই নেই।
‘বিজলী’র শ্যুটিং হয়েছে চারটি দেশে। মজার কোনো অভিজ্ঞতা…
এমন অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাংলাদেশ-থাইল্যান্ডে কাজ করতে খুব একটা কষ্ট হয়নি। কিন্তু আইসল্যান্ডে মাইনাস ৩৫-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও কাজ করতে হয়েছে। ভাবা যায় না এত ঠাণ্ডা। সেখানে সবাই গরম জামা-কাপড় পরেও কাঁপছে। এর মধ্যেই শ্যুটিংয়ের জন্য ববি পাতলা সিফনের গাউন পরে আছে, আমার গায়ে সুতির জামা ও প্যান্ট। অ্যাকশন বলার সময় স্বাভাবিকভাবে অভিনয় করতাম। দৃশ্যধারণের পর সবাই দৌড়ে আসতো আমাদের ঠাণ্ডা থেকে বাঁচানোর জন্য। গাড়ে জড়িয়ে দিত মোটা কাপড়। খুবই ভয়ঙ্কর। গলা দিয়ে আওয়াজ বের হতো না। ঠাণ্ডায় কথা বলতে পারতাম না। মনে হতো কানে কেউ টোকা দিলে ফেটে যাবে। কিন্তু মনিটরে যখন ধারণ করা দৃশ্যগুলো দেখতাম তখন মনে হতো, না! কষ্ট সার্থক হয়েছে!