বরিশালে ভাইস চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম ভুলু’র অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ভিডিও ফাঁস

প্রকাশিত
গৌরনদী(বরিশাল)প্রতিনিধি- নিজ কার্যালয়ের বিশেষ কক্ষে নারী অফিস সহকারীর সাথে জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরের আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে দেশ জুড়ে তোলপাড় চলছে। ওই ঘটনার রেশ না কাটতেই এবার বরিশালেও একটি ভিডিও নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
তবে এটি কোন সরকারি কর্মকর্তা বা আমলার নয়। এটি এক নারীর সাথে একজন জনপ্রতিনিধি’র অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ভিডিও। তিনি হলেন বরিশালের প্রত্যন্ত অঞ্চল মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খোরশেদ আলম ভুলু’র ভিডিও।
তবে  হাতে আসা ওই ভিডিওটি সাবেক স্ত্রী’র সাথে বলে দাবি করেছেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ভুলু। গত তিন বছর পূর্বে তালাক হওয়া সাবেক স্ত্রী’র সাথে আপত্তিকর ওই ভিডিও নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
ফেসবুক মেসেঞ্জারে পাওয়া ওই ভিডিতে দেখা যায়, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম ভুলু এক তরুনীর সাথে অন্তরঙ্গ মুহুর্তে রয়েছে। যা কেউ মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করেছে।
ভাইরাল হওয়া ৫ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে খোরশেদ আলম ভুলুকে এক নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহুর্তে দেখা যায়। যা রুমের এক কোণা থেকে ধারণ করা হয়। এলাকাবাসিদের সূত্রে জানাগেছে, ২০১৬ সালে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম ভুলু এক নারীর পরকীয়ায় লিপ্ত হয়। পরবর্তীতে ওই নারীকে পাতানো বিয়ের মাধ্যমে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। সে সময় ওই নারীকে খুলনায় রাখেন ভুলু।
পরে তাকে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চানপুর ইউনিয়নে নিয়ে আসেন খোরশেদ আলম ভুলু। পরবর্তীতে ওই নারী খোরশেদ আলম ভুলু’র প্রতারনার বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে নানাভাবে চাপ দিতে শুরু করে। এতে কাজ না হওয়ায় ওই নারী মোবাইল ফোনে তাদের অন্তরঙ্গ মূহুর্তের একটি গোপন ভিডিও ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিও’র সাহাজ্যে খোরশেদ আলম ভুলুকে জিম্মি করে ১০ লাখ টাকায় ঘটনাটি রাফাদফা করেন ওই নারী।
এ প্রসঙ্গে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান খোরর্শেদ আলম ভুলু অন্তরঙ্গ মূহুর্তের ভিডিও’র বিষয়টি স্বীকার করে  বলেন, এটি তিন বছরের আগের ভিডিও।
ঘটনা চক্রে খালেদা নামের ওই নারীকে বিয়ে করেছিলাম। পরে জানতে পারি মেয়েটির চরিত্র ভালো না। তাই তাকে তালাক দেয়ার কথা বলি। এ কারনে সেই সময় কেউ হয়তো গোপনে আমাদের অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ওই ভিডিওটি মোবাইল ফোনে ধারণ করে।
যা তখনকার সময় কেউ মোবাইলের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এর পর পরই তখন মেহেন্দিগঞ্জ থানা পুলিশের উপস্থিতিতে ওই সমস্যা সমাধান এবং ওই নারীকে তালাক দেয়া হয়েছে। কেউ হয়তো তখন ওই ভিডিওটি সংরক্ষণ করে রেখেছিলো। যা এখন আবার নতুন করে প্রকাশ করছে।
তিনি বলেন, সামনে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। ওই নির্বাচনে আমি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। এজন্য তিন বছর আগের ওই ভিডিওটি এখন কেউ নতুন করে আবার প্রকাশ করেছে। বিষয়টি নিয়ে আমি মেহেন্দিগঞ্জ থানা পুলিশের সাথে কথা বলেছি। তাদের মাধ্যমে ভিডিও প্রকাশকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
এদিকে মেহেন্দিগঞ্জ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, আমি এই থানায় নতুন এসেছি। তিন বছর আগে এমন কিছু ঘটে থাকলে সেটা আমার জানা নেই। তাছাড়া সম্প্রতি সময়ে এমন ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে কিনা সে বিষয়েও আমি অবগত নই। এমনকি ভাইস চেয়ারম্যানও বিষয়টি আমাকে জানায়নি।
বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, এটি তার পারিবারিক বিষয় হতে পারে। আমার জানা নেই। আর আগ্রহ করে জানার চেষ্টাও করিনি।
ভিডিও লিংক https://youtu.be/eGjDnxz_Uqc