বাংলাদেশে পুলিশ প্রশাসনের এক মহিয়সী-নারী পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার

প্রকাশিত

মৃণাল চৌধুরী সৈকত : শামছুন্নাহারকে নিয়ে চার ভাই বোনের মধ্যে সবার বড়। বাবা সামছুল হক ওরফে ভোলা মাস্টার ও মা আমিনা বেগম। তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ইসমাইল মুন্সীর ডাঙ্গীতে জন্মগ্রহণ করেন। ২ বোন ও ২ ভাই। সবার বড় তিনি। শামছুন্নাহারকে নিয়ে মা-বাবার স্বপ্ন ছিল আকাশ ছোঁয়া। মেজো ভাই ডাক্তার। সেজো ভাই হাইকোর্টের আইনজীবী। সবার ছোট বোন স্কুলের শিক্ষিকা। তিনি ১৯৯১ সালে ভর্তি হন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৬ সালে বিএসএস ও ১৯৯৮ সালে এমএসএস ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০১ সালে বিসিএস পাস করে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিসে যোগদান করেন।

শুধু ফরিদপুরের কৃতি সন্তান এই শব্দ উচ্চারণ করে ওনাকে ছোট করতে চাই না । আমার দৃষ্টিতে পুলিশ সুপার শামছুন্নাহার বাংলাদেশ তথা বিশ্ব বাঙ্গালির গর্ব । “পুলিশ জনগনের বন্ধু” এই প্রবাদটির যথার্থ মর্যাদা কাজের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগ যেমন জনগনকে দিনরাত সেবা প্রদানের মাধ্যমে দিয়ে থাকেন, ঠিক তেমনি শামছুন্নাহার তার অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, শ্রম, নিষ্টা আর সততার মধ্যদিয়ে জনগনের খুব কাছ থেকে তাদের উপলব্ধি করেন এবং তাদের জন্য কাজ করেন সর্বজন প্রসংশিয়তায়। পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার ২০১৬ সালে দেশের প্রথম নারী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে জাতীয় পুলিশ প্যারেডে নেতৃত্বে দিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনাম গ্রহন করেন। অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে শ্রেষ্ঠ হয়ে রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল) পেয়েছেন তিনি। পুলিশ সপ্তাহ- ২০১৭ উপলক্ষে ২৩ জানুয়ারিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর হাতে এ মেডেল তুলে দেন। সেবা, সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য তার এ পদক। তিনি চাঁদপুরের পুলিশ সুপার থাকাকালীন মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই পদকে ভূষিত করা হয়। তিনি মাদক, সন্ত্রাস, বাল্যবিয়ে ও শিশু নির্যাতনসহ সমাজিক অপরাধমুক্ত করণে ব্যাপক সাফল্য লাভ করেছেন। মাদক ব্যবাসায়ীদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তাদের পরিবারকে সতর্ক করার নজীরও রয়েছে দূ:সাহসী নারী পুলিশ সুপার শামছুন্নাহার ।

তিনি সুশীল সমাজের সহযোগিতায় বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিয়ে জেলার জনবহুল এলাকা, হাট বাজারগুলোতে মাদকবিরোধী প্রচারণা করেছেন।

পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার নির্যাতিত নারী ও শিশুদের কথা চিন্তা করে ২০১৫ সালে ১৫ অক্টোবর নারী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অভিযোগ সেল গঠন করেন। যেখানে প্রতিদিন নির্যাতিত নারী ও শিশুরা সেবা পেয়েছেন। এতে করে পুলিশ সুপারের প্রতি নারীদের আস্থা অনেকাংশে বেড়েও গিয়েছিল। চাঁদপুরের মত মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ঘোষনার বাস্তবায়ন করবে এটাই গাজীপুরবাসীর দাবী।