বাংলাদেশ খাদ্যশস্য উৎপাদনে আজ বিশ্বে একটি বিরল দৃষ্টান্ত : রাষ্ট্রপতি

প্রকাশিত

জাতীয় ডেস্কঃ রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, আমাদের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন যুদ্ধে জয়লাভের জন্য কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন অপরিহার্য। কেননা, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও স্থিতিশীলতা অর্জনে কৃষির ভ‍ূমিকা আজও মুখ্য। সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় জলবায়ু পরিবর্তন জড়িত বৈরিতা মোকাবেলা করে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ধান, গম, ভুট্টা, সবজি, মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ উৎপাদনে বিশ্বের অন্যান্য দেশের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ অব্যাহতভাবে এগিয়ে চলছে। এটিই সম্ভব হয়েছে সরকারের বাস্তবমুখী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে। বিশেষ করে কৃষকদের অনুকূলে সার, সেচ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বাবদ ব্যাপক ভিত্তিতে কৃষি সহায়তা প্রদানের ফলশ্রুতিতে।

বৃহস্পতিবার ফাগুনের পড়ন্ত বিকালে মনোরম নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য মণ্ডিত সবুজ টিলা বেষ্টিত সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন তিনি।

তিনি বলেন, কৃষিখাতে আজ যে অভাবনীয় সাফল্য দৃশ্যমান, এর পেছনে নিরলসভাবে কাজ করছেন আমাদের কৃষিবিদগণ। নিরন্তর গবেষণার মাধ্যমে তারা পরিবেশ উপযোগী প্রযুক্তি উদ্ভাবনসহ সব পর্যায়ে তা দ্রুত হস্তান্তর ও বিস্তারেও ভূমিকা রাখছেন। আমি আজ শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করছি জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। একই সাথে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি ভাষা আন্দোলনের চিরঞ্জীব শহীদসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে আবদানকারী ত্রিশ লাখ শহীদের অমর স্মৃতির প্রতি। আমরা এদেরই গর্বিত উত্তরাধিকার। এদের স্বপ্ন ও আদর্শকে জীবনের সর্বস্তরে বাস্তবায়ন করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. গোলাম শাহি আলম।

এর আগে রাষ্ট্রপতি বিমানে সিলেট পৌঁছেই হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরানের (র.) মাজার জিয়ারত করেন। তার আগমন উপলক্ষে সিলেট শহরে ছিল কড়া নিরপত্তা।