বাউফলে শিক্ষার্থীর চুল কেটে দিলেন শিক্ষক

প্রকাশিত

বাউফল(পটুয়াখালী)প্রতিনিধিঃপটুয়াখালীর বাউফলে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে সহপাঠিদের সামনে চুল কেটে দেয়ার পর স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে রাকিব হোসেন নামের এক শিক্ষার্থীর। রাকিব হোসেন উপজেলার রাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৩০ জানুয়ারি ওই বিদ্যালয়ের শ্রেণী শিক্ষক কামরুল হাসান দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রাকিব হোসেনকে অফিস কক্ষে ডেকে নেন। একই সময় তার সহপাঠিদের ডেকে নিয়ে সকলের সামনকে কাচি দিয়ে ওই শিক্ষক রাকিব হোসেন এর চুল কেটে দেন। ঘটনার পর থেকে লজ্জায় অপমানে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয় রাকিব।
রাকিবের চাচা ১৬ নং রাজাপুর বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী কাম দপ্তরি জাকির হোসেন জানান, ক্রিকেটারদের ষ্টাইলে চুল রাখার অপরাধে ক্ষুব্দ হন শ্রেণী শিক্ষক কামরুল হাসান। ঘটনার দিন ক্লাশে যাওয়ার পর রাকিবকে অফিস কক্ষে ডেকে নেন তিনি। এরপর অন্যান্য শিক্ষক ও সহপাঠিদের সামনে কাচি দিয়ে তার চুল কেটে দেয়া হয়। চুল কেটে দেয়ার পর সহপাঠিরা তাকে নিয়ে হাসি ঠাট্টায় মেতে ওঠে। এই অপমান সইতে না পেরে রাকিব স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়।
রাকিবের বাবা হানিফ হাওলাদার বলেন, আমার ছেলে কোন অন্যায় করলে শিক্ষকরা আমাকে অবহিত করতে পারতেন। স্কুলে যাওয়ার পর এভাবে সকলের সামনে রাকিবকে অপমান করা ঠিক হয়নি। এখন আবার বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন শিক্ষকরা। ঘটনাটি বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মনজুর আলম হিরন মৃধাকে অবহিত করা হলেও তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
চুল কাটার অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষক কামরুল হাসান বলেন, শিক্ষক হিসেবে ছাত্রদের একটু শাসন করতেই পারি। তাই রাকিবকে চুল কাটার জন্য বকেছি। এরপর সে সেলুনে গিয়েই চুল কেটেছে।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মনজুর আলম হিরন মৃধা বলেন, দশম শ্রেণীর ছাত্র রাকিব বখাটে প্রকৃতির। সে শিক্ষকদের মান্য করে না। এছাড়া চুল কাটার কোন অভিযোগ আমি পাইনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে আইণানুগ ব্যবস্থা নেয়া হত।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন বলেন ঘটনার দিন আমি প্রতিষ্ঠানের কাজে এলাকার বাইরে ছিলাম।