বাগেরহাটের পানগুছি নদীতে সেতু চাই ৫ লাখ মানুষ

প্রকাশিত
শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা  : বাগেরহাট-শরণখোলা সড়কের মধ্যবর্তী মোড়েলগঞ্জের পানগুছি নদীর উপর সেতু নির্মানের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।  পানগুছি সেতু নির্মাণ দু’উপজেলার প্রায় ৫ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি হলেও  তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় হতাশায় পড়েছেন এলাকাবাসী।
প্রতিদিন যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি এবং হাজার হাজার মানুষ নদী পারাপার করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে।
এমনকি, ২০১৭ সালের মার্চ মাসে ইঞ্জিন চালিত ট্রলার ডুবে ২১ জনের সলিল সমাধি ঘটায় দাবীটি এখন এলাকাবাসীর কাছে অগ্রধিকার পাচ্ছে । একারনে সেতু নির্মান বাস্তবায়ন দাবী আরো জোরালো হয়। এ বিবেচনায় সেতু নির্মানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশের পর এ সংক্রান্ত ফাইল এখন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে দাতা সংস্থার ফান্ডের অপেক্ষায় ফাইলবন্দী অবস্থায় রয়েছে। আগামী ৩ মার্চ খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে সামনে রেখে ভুক্তভোগী এ অঞ্চলের মানুষ সেতুর দাবীতে ব্যাপকভাবে দাবী তুলেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের প্রোফাইল পিকচারে হাজার হাজার এলাকাবাসী “পানগুছিতে সেতু চাই” লোগো সংক্রান্ত পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি এখন দু’উপজেলায় টক অব দি টাউনে পরিনত হয়েছে।
জানা যায়, বাগেরহাট-শরণখোলা সড়কের মধ্যবর্তী মোড়েলগঞ্জ উপজেলা সদরের পানগুছি নদী। এ দু’উপজেলার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ জেলা সদরসহ ঢাকা, খুলনা ও চট্রগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতে পানগুছি নদী পার হতে হয়। যানবাহন পারাপারে ফেরীর ব্যবস্থা থাকলেও সাধারন মানুষসহ স্কুল কলেজগামী ছাত্র ছাত্রীরা ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে করে পারাপার হয়। এভাবে পার হতে গিয়ে প্রায়শঃ দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হতে হয় এলাকাবাসীকে। ২০১৬ সালে ট্রলার এক ডুবির ঘটনায় প্রানহানী ঘটে ২১ জনের। এভাবে ঘটতেই থাকে প্রায়শঃ দুর্ঘটনা। এছাড়া, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত কটকা, কচিখালী, দুবলারচর সহ বিভিন্ন পর্যটন স্থানে যেতে এ সড়ক ব্যবহার করে থাকে দেশী ও বিদেশী পর্যটকরা। পাশাপাশি, শরণখোলা রেঞ্জ সংলগ্ন এলাকায় ইকো পার্ক নির্মান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ইতোমধ্যে শরণখোলার সুন্দরবন সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় বে-সরকারী উদ্যোগে রিসোর্ট নির্মান ও পার্ক তৈরীর জন্য জমি ক্রয় করে বিভিন্ন ব্যাক্তি অনেক প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এর বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুর রহমান মাসুদ এ বিষয়ে জানান, পানগুছি নদীতে সেতু নির্মানের জন্য সংশ্লিষ্ট বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ডা. মোজাম্মেল হোসেনের ডিও লেটারের বিপরীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে সওজ বিভাগ সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় জরিপ কাজ সম্পন্ন করে প্লিমিনারী ডেভেলপমেন্ট প্রোপোজাল প্রকল্প (পিডিপিপি) এর আওতায়  ৪’শ ১৩কোটি টাকার একটি প্রকল্প তৈরী করেছেন। যার দৈর্ঘ  ৪’শ ৪৮ মিটার ও প্রস্থ ১০.২৫ মিটার। যা এখন পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে বিদেশী ফান্ড পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পে পানগুছি সেতু নির্মান বাস্তবায়ন অন্তর্ভূক্তির জন্য করার বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক উদ্যোগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ডা. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, তার উদ্যোগে বাগেরহাট-শরণখোলা আঞ্চলিক মহা-সড়ক নির্মানের পর শরণখোলা ও মোড়েলগঞ্জবাসীর যাতায়াতে দুর্ভোগ লাঘবে এবং সুন্দরবনে পর্যটন কেন্দ্র নির্মানের স্বার্থে পানগুছি নদীর উপর সেতু করার জন্য তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন। বিষয়টি এখন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এলাকার অর্থনৈতিক চাকা সচল করার লক্ষ্যে তার স্বপন বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবী জানিয়ে তিনি সর্বদা তৎপর রয়েছেন বলে জানান। শরণখোলা উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আকন ও মেড়েলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. শাহ্-ই-আলম বাচ্চু জানান, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারী প্রধানমন্ত্রী খুলনায় আসছেন। সেখানে দু’উপজেলাবাসীর একমাত্র ও প্রানের দাবী – ‘‘পানগুছি নদীর উপর সেতু নির্মান চাই’’ দাবী তোলা হবে ।