‘বাঘ মারতে যামু, আমি আর মামু

প্রকাশিত

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন ও যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। প্রবীণ এই দুই নেতার ঐক্য প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘এদের কাণ্ড-কীর্তন দেইখ্যা আমার আজম খানের একটা গান মনে হইছে। ‘বাঘ মারতে যামু, বাঘ মারতে যামু-বন্দুক লইয়্যা রেডি হইলাম আমি আর মামু’ এই তিন নেতা বাঘ মারতে রেডি অইছে।’’

শনিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে কেন্দ্রীয় ১৪ দল আয়োজিত ‘বিএনপির অব্যাহত মিথ্যাচার ও চক্রান্তের বিরুদ্ধে’ কর্মী সমাবেশে তিনি একথা বলেন।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচন বানচালের জন্য তারা আবার ষড়যন্ত্রের পথে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা বানচালের জন্য তারা আবার মাঠে নেমেছেন। ইনশাআল্লাহ এই নির্বাচন হবে, ৫ বছর আগের নির্বাচন ঠেকাইতে পারেন নাই। এখনও পারবেন না, এই নির্বাচন হবেই। নির্বাচনে জনগণকে নিয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে ঝাপাইয়া পড়ব। বাঘ মারার ডর দেখাইয়্যা কোনো লাভ নাই, ওইটা বাঘ না ফেউ মারছেন। ওই ফেউতে বাংলার মানুষ ডরায় না। ওই ফেউয়ের পেছনে বাংলার মানুষ নাই।’

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘এখানে সভা হয়েছিল, সেখানে কাকে দেখলাম কামাল হোসেন। আপনাদের মনে আছে, গণতান্ত্রিক ঐক্য জোটের প্রার্থী ছিল জেনারেল ওসমানী। জেনারেল ওসমানীর ফাইনাল প্রজেকশন মিটিং ছিল এই পল্টনে। সেই দিন কামাল হোসেন আগের রাতে ভাগাতালি হয়ে গেছেন। টাটা-বাই-বাই উনি আর নাই। এই হলো ইলেকশনের আগে উনি ভাগা তালি হন।’

ড. কামাল হোসেনের সমালোচনা করে মতিয়া বলেন, ‘৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কথা আমরা সবাই জানি। তিনি আবার মাঠে নেমেছেন, কখন নেমেছেন? যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ওনাকে দেখা যায়নি। ১/১১-এর সময় যখন স্বৈরাচার ছিল তখন তাকে দেখা যায়নি। আজকে তিনি এসেছেন গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেবেন। আপনি ইলেকশনের আগের দিন পলায়া যান, আপনারে খুইজ্জা পাওন যায় না, লোড় পাড়েন। আর আপনি আসছেন গণতন্ত্র উদ্ধারের জন্য? এই কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার আমির-উল- ইসলামের বইতে লেখা আছে। ২৫ মার্চ রাতে তাজউদ্দীনকে সাহেবকে বললেন, আমি এখানে একটু নামি পরে দেখা হবে। পরে আর জিন্দিগিতে দেখা হয় নাই। টিক্কা খানের বাড়িতে গিয়া উঠছেন।’

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বি. চৌধুরী সাহেব। বি. চৌধুরী সাহেব কে? আমার কথা না, জিয়াউর রহমান সাহেব মারা যাওয়ার পরে আপনারা তখনকার কাগজ খুইল্যা দেইখেন কী হেডিং ছিল। ঝাঁকে ঝাঁকে বুলেট বাবার বুক ঝাঁঝড়া করে দিল, তুমি কোথায় লুকিয়ে ছিলে বদু কাকা?-এটা হলো তারেক রহমানের বিলাপ। ভুলে যায় নাই বাংলার মানুষ।’

বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় রাষ্ট্রপতির পদ থেকে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগ পরবর্তী ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘তারপর আরেক সিন-সিনারি। সেইটা কি? তিনিও লোড় পাইড়্যা, দৌড় পাইড়্যা সেই রেললাইন ধইর্যা তারেকের ধাওয়া খাইয়া দৌড় পাড়ছেন। এখন শখ জাগছেন উনি আবার কিছু একটা হবেন। এই জন্য দুই পলায়নপর নেতা, আরেক পলাতক নেতা তারেক রহমান। টাকা পাচারের দায়ে শাস্তি হইছে-এই তিন নেতার ঐক্য হইছে। সেই ঐক্য দিয়া তারা নাকি বাংলাদেশকে উদ্ধার করবে। নির্বাচন বানচাল করবে। গণতন্ত্রের নামে এই দেশে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করবে।’

১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে এ কর্মী সমাবেশ সঞ্চালন করেন ঢাকা মহানগর ১৪ দলের সমন্বয়ক শাহে আলম মুরাদ। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, বাংলাদেশ জাসদ সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, জেপি মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাৎ হোসেন, বাংলাদেশ জাসদ সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশীদ খান প্রমুখ।