বিচারক নিরপেক্ষ হলে খালেদা খালাস পাবেন

প্রকাশিত

ডেস্ক রিপোর্ট :  বিচারক ‘নিরপেক্ষ’ হলে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া খালাস পাবেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন।

রবিবার রাতে নারায়ণগঞ্জে বিবি রোডের বাধন কমিনিউটি সেন্টারে আয়োজিত নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ প্যানেলের পরিচিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জয়নাল আবেদীন বলেন, দেশে আইনের শাসন নেই। বিচারহীনতার মধ্যে অস্থিরতায় দেশ চলছে। বিচার বিভাগের অভিভাবক নেই। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই। দেশে গণতন্ত্র নেই। সর্বপরি দেশে মানুষের কথা বলার অধিকার নাই। মিথ্যা রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার নামে হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হয়েছে। যদি বিচারক নিরপেক্ষভাবে বিচার করেন তাহলে নেত্রী খালাস পাবেনই। অবশ্যই খালাস পাবেন।

তিনি আরো বলেন, কিন্তু সরকারি দলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন ৮ তারিখে নাকি কেয়ামত করে দেবেন।  বেগম খালেদা জিয়া আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সপ্তাহে তিন দিন কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়। অমানবিক কষ্ট। তারপরও নেত্রী আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।  কিন্তু সরকারের এমপি মন্ত্রীরা বলছেন ৮ তারিখে নাকি কেয়ামত করে দেবেন। আমরা বলব যদি নিরপেক্ষ বিচার হয় মিথ্যা মামলায় বেগম খালেদা জিয়া খালাস পাবেন।

পরিচিত সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। তিনি বলেন, গত সপ্তাহের মঙ্গলবার আমাকে পুলিশ হেনস্থা করে গ্রেপ্তার করার সময় আইনজীবীরা যে ভূমিকা নিয়েছিলেন তার জন্য সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

তৈমূর আরো বলেন, একটা শ্রেণি ভোটবিহীন নির্বাচন করে গণতন্ত্র হরণ করছে। আরেকটা শ্রেণি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আন্দোলন করছে। এখন আপনাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন কোন দিকে থাকবেন? একটা দেশের প্রধান বিচারপতিকে অস্ত্রের মুখে দেশ ত্যাগ করতে হয়। সে দেশ এখন কোন পথে?

তিনি সরকারি দলকে ইঙ্গিত করে বলেন, আমরা কোনো ভয় পাই না। আমাদের বহু ভয় দেখাইছেন। আর কত দেখাবেন? নারায়ণগঞ্জে যারা ভয় দেখান তাদের বাপ দাদার কবর যেখানে আমার বাপ দাদার কবরও সেখানে। সুতরাং ভয় দেখাবেন না। গুলি খাইছি, বাড়ি জ্বালাইছেন, মামলা করছেন, রাস্তায় পিটাইছেন, জেল খাটাইছেন। আর কি করবেন?

নারায়ণগঞ্জ ডিসি-এসপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা কোনো দলের ডিসি-এসপি নন। আপনাদের ইমানি দায়িত্ব নারায়ণগঞ্জের মানুষকে নিরাপত্তা দেয়া। নারায়ণগঞ্জের মানুষের টেক্সের টাকায় কোটি টাকার গাড়ি দিয়ে চলেন। নারায়ণগঞ্জে এসপি-ডিসি আসলেই পরিচয় দেন তিনি ছাত্রলীগের কোন কমিটির কোন পদে ছিলেন। আপনাদের মত বহু ডিসি এসপিকে নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল আমাদের আন্দোলনের কারণে। সুতরাং কোনো দলের ডিসি এসপি না হয়ে নারায়ণগঞ্জের মানুষের ডিসি এসপি হোন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানা উল্লাহ মিয়া।

নারায়ণগঞ্জের আইনজীবী ফোরাম নেতা অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে ও সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট নবী হোসেনের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির, মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভুইয়া, মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন প্রমুখ।

এ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট জহিরুল হক ও সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ খান ভাষাণী ভূইয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। এ প্যানেল থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম খান রেজা, সহ-সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট আজিজ আল মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ মোল্লা, কোষাধ্যক্ষ পদে অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন মাসুম, আপ্যায়ন সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট সুমন মিয়া, লাইব্রেরি সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট একেএম ওমর ফারুন নয়ন, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম মাসুম, ক্রীড়া সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলাম সুমন, সমাজ সেবা সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট শারমীন আক্তার, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলাম মুক্তা, কার্যকরী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট আমেনা আক্তার শিল্পী, অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব গোলাপ, অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম আনু, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান ফাহিম ও অ্যাডভোকেট আল আমিন সবুজ প্রমুখ।

অন্যদিকে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মোহসীন মিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ প্যানেলে সিনিয়র সহ সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট আবদুল লতিফ মিয়া, সহ সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট সালাহ উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ পদে অ্যাডভোকেট জসিমউদ্দিন, আপ্যায়ন সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান কাজল, ক্রীড়া সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট আবুল বাশার রুবেল, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট সাজ্জাদুল হক সুমন, লাইব্রেরী সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট সুভাষ বিশ্বাস, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট স্বপন ভূইয়া, সমাজ সেবা সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট ইসরাত জাহান ইনা, কার্যকরী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান, অ্যাডভোকেট রাশেদ ভূইয়া, অ্যাডভোকেট সোয়েব আহমেদ শুভ, অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান ও অ্যাডভোকেট রুমানা আক্তার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন।

এ ছাড়াও কার্যকরী সদস্য পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন অ্যাডভোকেট আসাদুল্লাহ সাগর।