বিজ্ঞানীরা মলকে মহাকাশচারীদের খাবারে পরিণত করেছেন!

প্রকাশিত

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: মহাকাশ ভ্রমণ নিয়ে মানুষের অনেক বড় স্বপ্ন রয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রযুক্তি এখনো সে পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

মহাকাশচারীকে মঙ্গলগ্রহে নিয়ে যেতে সক্ষম, এমন মহাকাশযান নির্মাণ ইতিমধ্যে অগ্রগতির পথে রয়েছে কিন্তু তারপরও আরো বড় কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এবং সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হচ্ছে, খাবার।

দূরবর্তী এই ভ্রমণ শেষ করার মতো পর্যাপ্ত প্যাকেটজাত খাদ্য নিয়ে যাওয়াটা বোকামি হতে পারে, কেননা কোনো কারণে যদি ভ্রমণকালীন সময়টা আরো লম্বা হয়, তাহলে খাবার সংকটে পড়তে হবে মহাকাশচারীদের। মহাকাশযানে বিশেষ খাবার জন্মানো, সেটির বেড়ে ওঠা ও ফসল পাওয়া অনেক দিন প্রতীক্ষার একটা ব্যাপার।

এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা অভিনব বিকল্প ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেছেন, যার মাধ্যমে মহাকাশচারীদের খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলায় দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে না। সেটি হচ্ছে, মল!

আমরা ইতিমধ্যে জানি যে, মহাকাশচারীরা তাদের নিজস্ব বর্জ্য বিশেষ করে মূত্র রিসাইকেল করে ব্যবহার করে। অর্থাৎ মূত্র ফিল্টার করে পানীয় জলে পরিণত করে তা পান করে। কিন্তু নিজস্ব মলকে খাবারে পরিণত করা আসলেই সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু।

পেনসিলভেনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা এমন একটি পদ্ধতি তৈরি করেছেন, যার ফলে মানুষের মল শুধু খাবার উপযোগীই নয় বরঞ্চ পুষ্টিকরও। মাইক্রোবস ব্যবহার করে মল থেকে সলিড এবং লিকুইড অংশ আলাদা করে প্রোটিন এবং ফ্যাট বের করে খাদ্যদ্রব্য তৈরি করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

পেনসিলভেনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির জিয়োসায়েন্সের অধ্যাপক ক্রিস্টোফার হাউস বলেন, ‘মহাকাশচারীদের বর্জ্যকে মাইক্রোবসের সাহায্যে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে এ ধরনের বিষয় বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।’

এক্ষেত্রে মহাকাশচারীদের মল মাইক্রোবসের মাধ্যমে ভেঙে ফেলা হয়। এই মাইক্রোবস বর্জ্য পরিপাক করে মিথেন তৈরি করে। এই মিথেন পরবর্তীতে ভিন্ন ধরনের মাইক্রোবস তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, যার নাম মেথাইলোকোকাস ক্যাপসুল্যাটাস। এই মাইক্রোবস ৫২ শতাংশ প্রোটিন এবং ৩৬ শতাংশ চর্বি সমৃদ্ধ। নিজস্ব মল থেকে তৈরি এই খাবার দীর্ঘ মহাকাশ যাত্রায় মহাকাশচারীদের খাবারের সমস্যা অনেকটাই মেটাবে। তবে বিষয়টি নিয়ে আরো গবেষণা বাকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক ক্রিস্টোফার।

তথ্যসূত্র : বিজিআর