বিষয়টি গুজব, বিভ্রান্ত হয়ে এমন কাজ করেছি : নওশাবা

প্রকাশিত

শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের মাঝে গতকাল শনিবার গুজব ছড়ানোর অভিযোগ ‘ঢাকা অ্যাটাক’ খ্যাত অভিনেত্রী কাজী নওশাবাকে আটক করে র‌্যাব। বিকালে ফেসবুক লাইভে এসে নওশাবা বলেন, রাজধানীর জিগাতলায় একজন শিক্ষার্থীর চোখ তুলে ফেলা ও চার শিক্ষার্থীকে মেরে ফেলা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের কোনও সত্যতা পাওয়া যায়নি।

পরে অবশ্য শনিবার মধ্যরাতে নওশাবা একটি ভিডিওতে বিকেলেরত লাইভে দেওয়া বক্তব্যকে গুজব হিসেবে আখ্যায়িত করলেন। একজনের ফোন পেয়ে তিনি আবেগ তাড়িত হয়ে তৎক্ষণাত লাইভে এসে এমন কথা বলেন। যার কোনো ভিত্তি ছিল না বলে উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী।

নওশাবা পরে গুজব উল্লেখ করে বলেন, আমি কাজী ন ওশাবা আহমেদ। আমি একজন অভিনেত্রী। আমি আজ দুপুরে একটি লাইভ শেয়ার করেছিলাম। সেখানে আমি বলেছিলাম যে একটি শিশুর চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে এবং চারজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমার কাছে একটি ফোন এসেছিল এবং যে আমাকে ফোন করেছিল সে চিৎকার করে কাঁদছিল। আমি তার কথায় বিভ্রান্ত হই।

এই অভিনেত্রী বলেন, বিভ্রান্ত হয়ে তৎক্ষণাত লাইভে যাই। ও আমাকে বলে যে ঘটনাটি জিগাতলায় হচ্ছে আর আমি সেসময় উত্তরাতে ছিলাম। আমি আবেগপ্রবণ হয়ে ইনস্ট্যান্ট লাইভে আসি। এবং আমি বলি যে এরকম হচ্ছে। আমি পরবর্তীতে জানতে পারি আমাকে যে তথ্য দেওয়া হচ্ছিল সেগুলো একটিও সঠিক না। আমাকে ব্যবহার করা হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরা থেকে নওশাবাকে আটক করে হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর আগে নওশাবারও বিকেলের ওই লাইভ ভিডিও হাজার হাজার শেয়ার হয়। রীতিমতো গুজব রটে যায় সোশ্যাল সাইটে।

কী বলেছিলেন নওশাবা?

নওশাবা ফেসবুক লাইভে বলেছিলেন, ‘জিগাতলায় আমাদের ছোট ভাইদের একজনের চোখ তুলে ফেলা ও চারজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। একটু আগে ওদেরকে অ্যাটাক করা হয়েছে। ছাত্রলীগের ছেলেরা সেটা করেছে। প্লিজ-প্লিজ ওদেরকে বাঁচান। তারা জিগাতলায় আছে। আপনারা এখনই রাস্তায় নামবেন ও আপনাদের বাচ্চাদের নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাবেন, এটা আমার রিকোয়েস্ট। বাচ্চাগুলো নিরাপত্তাহীনতায় আছে। আপনারা প্লিজ কিছু একটা করেন। আপনারা সবাই একসাথে হোন। আমি এ দেশের মানুষ, এ দেশের নাগরিক হিসেবে আপনাদের কাছে রিকোয়েস্ট করছি।’

তবে এই ভিডিও পোস্টের পর গণমাধ্যমের কাছে নওশাবা বলেন, তিনি এসব ঘটনা নিজে দেখেননি। অন্য একজনের কাছে শুনেছেন। উল্লেখ্য, ধানমণ্ডির এই সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল সাইটে প্রচুর গুজব ছড়িয়েছে। যার একটিও সত্যি নয়। তবে, হামলায় বেশ কিছু শিক্ষার্থীর আহত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।