বোলিং ব্যর্থতায় রেকর্ড গড়েও জেতা হলো না

প্রকাশিত

স্পোর্টস রিপোর্টার: নিজেদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর গড়ার ম্যাচে বোলারদের ব্যর্থতায় হারের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহরা হেরেছে ৬ উইকেটে। বাংলাদেশের গড়া ৫ উইকেটে ১৯৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে লঙ্কানরা ৪ উইকেটে ২০ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায়। জয়ের জন্য ১৯৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতেই ৫৩ রান জমা করেছিলেন দুই লঙ্কান ওপেনার ধনুস্কা গুনাথিলাকা ও কুশল মেন্ডিস। পঞ্চম ওভারে ৩০ রান করা গুনাথিলাকাকে ফেরালেও স্বস্তি ফেরেনি বাংলাদেশ শিবিরে। অষ্টম ওভারে ৫৩ রান করা মেন্ডিসকে আউট করেন আফিফ হোসেন। পরের ওভারে উপুল থারাঙ্গার উইকেটও তুলে নেন নাজমুল ইসলাম অপু। ১১ রান করে নিরোশান ডিকওয়েলাও ধরেছিলেন সাজঘরের পথ।
তিন নাম্বার ব্যাটসম্যান উপুল থারাঙ্গাকে (৪) দ্রুত ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান ওই অপু। চার ওভারে ২৫ রান দিয়ে এই দুই উইকেট নেন তিনি। এরপর দাসুন শানাকাকে নিয়ে ৩৭ রান যোগ করেন ডিকেভেল্লা। ডিকেভেল্লাকে (১১) ফেরান রুবেল হোসেন। ৩.৪ ওভারে ৫২ রান খরচ করে এই একটি উইকেট তার। মুস্তাফিজ ৩২ দিয়ে উইকেটহীন। আফিফ দুই ওভারে ২৬ দিয়ে একজনকে ফেরান। সবচেয়ে খারাপ বোলিং করেন সাইফউদ্দিন। তিনি ২ ওভার বোলিং করে ৩৩ রান দিয়ে কোন উইকেট পাননি। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও বোলিংয়ে মিতব্যয়ী ছিলেন না। তিনি ২ ওভার বোলিং করে ২৩ রান দেন। তবে এরপর বাংলাদেশের বোলারদের আর কোনো সুযোগ দেননি দাশুন শানাকা ও থিসারা পেরেরা। পঞ্চম উইকেটে ৬৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন এই দুই লঙ্কান ব্যাটসম্যান। ২০ বল হাতে রেখেই পৌঁছে যায় জয়ের বন্দরে। ৪২ রান করে অপরাজিত ছিলেন শানাকা। পেরেরার ব্যাট থেকে এসেছে ৩৯ রান। এর আগে গতকাল মিরপুর শেরেবাংলায় ২ ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে এর আগে টস জিতে সৌম্য-মুশফিক-মাহমুদউল্লার ব্যাটিং নৈপুণ্যে পাঁচ উইকেটে ১৯৩ রানের রেকর্ড সংগ্রহ দাঁড় করায় স্বাগতিক শিবির। টি-টোয়েন্টিতে এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর। আগের সর্বোচ্চ ১৯০ (আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে, ২০১২ সালে বেলফাস্টে)।
পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে আসে ৭১। ১০ ওভারে ১০০। চতুর্থ উইকেটে ৭৩ রানের জুটিতে দলকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। টি-টোয়েন্টি এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। ওপেনার সৌম্য সরকার (৫১) এবং মুশফিকুর রহিম (৬৬) এদিন ফিফটি পেয়েছেন। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ করেন ৪৩। এই ফরম্যাটে দ্বিতীয় ফিফটি পেয়েছেন মুশফিকুর রহিম। অন্যদিকে সৌম্য সরকারের প্রথম। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ শুরু পেয়েছিল বাংলাদেশ। অভিষিক্ত জাকির হাসান চতুর্থ ওভারের শেষ বলে ফিরে যাওয়ার আগে স্কোরবোর্ডে উঠেছে ৪৯ রান। মারমুখো ব্যাটিংয়ে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নেন সৌম্য সরকার। কিন্তু ১১তম ওভারে ছোটখাটো মড়ক লাগে বাংলাদেশের ইনিংসে। তিন বলের মধ্যে ফিরে যান সৌম্য ও আফিফ হোসেন ধ্রুব। ২ ছক্কা ও ৬ বাউন্ডারিতে ৩০ বলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নেন সৌম্য। কিন্তু ১১তম ওভারে ব্যক্তিগত ৫১ রানে জীবন মেন্ডিসের বলে এলবিডব্লু হয়ে ফিরে যান এ ওপেনার । এক বল পরই লঙ্কান উইকেটরক্ষক নিরোশান ডিকভেলাকে ক্যাচ দেন অভিষিক্ত আফিফ। মেন্ডিসের ডেলিভারি তার উরুতে লেগে ব্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা পড়ে ডিকভেলার গ্লাভসে। দারুণ উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছেন ডিকভেলা। কিন্তু চাপ সামলে নেন মুশফিকুর রহিম (৬৬*) ও মাহমুদউল্লাহ (৪৩)। চতুর্থ উইকেটে ৭৩ রানের জুটি গড়েন দুজন। আফিফের মতো আন্তর্জাতিক অভিষেকে জাকির হাসানের শুরুটাও ভালো হয়নি। ৯ বলে ১০ রান করে দানুষ্কা গুনাতিলকার বলে বোল্ড হন তিনি। জাকির ছাড়াও বাংলাদেশ দলে অভিষিক্ত বাকি তিন নতুন মুখ হলেন আফিফ হোসেন, নাজমুল ইসলাম ও আরিফুল হক। চোটের কারণে দলে নেই তামিম ইকবাল। বিপিএলের গত আসরে দারুণ পারফরম্যান্স করেছেন জাকির হাসান ও আরিফুল। এ ছাড়া নিউজিল্যান্ডে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভালো খেলেছেন আফিফ হোসেন।
অফফর্মের কারণে ওয়ানডে আর টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েন সৌম্য সরকার। ত্রিদেশীয় সিরিজ আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে তাই দেখা যায়নি তাকে। তবে টি-টোয়েন্টিতে সর্বশেষ ছয় ম্যাচেই রান পেলেন বাঁ-হাতি এ ওপেনারের। এখনও যেন এ ফরমেটটা ভীষণ উপভোগ করেন, সেটা আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন সৌম্য। মিরপুরে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ব্যাট হাতে রীতিমতো তা ব দেখিয়েছেন এ ওপেনার।
জীবন মেন্ডিসের লেগস্পিনে এলবিডব্লিউ হয়ে ৫১ রানে ফিরেন সৌম্য। জীবন মেন্ডিসের ঘূর্ণিতে এলবিডব্লিউ হওয়ার পর মাটিতে পড়ে গিয়েছিলেন এ ওপেনার। উরুতে চোট নিয়ে এরপর খুঁড়িয়ে খুড়িয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাকে। পরের বলেই উইকেটরক্ষকের দুর্দান্ত ক্যাচে শূন্য করে সাজঘরে ফেরেন অভিষিক্ত আফিফ হোসেন। টানা দুই উইকেট হারিয়ে তখন কিছুটা বিপদে বাংলাদেশ। চতুর্থ উইকেটে দুর্দান্ত এক জুটিতে সেই বিপদ কাটিয়ে উঠেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর মুশফিকুর রহীম। লঙ্কান বোলারদের রীতিমতো তুলোধুনো করে ৭৩ রান যোগ করেন এ যুগল। সৌম্য সরকারের পর মাত্র ৩৭ বলে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিকুর রহিমও। তবে ফিফটির আশা জাগিয়েও সাজঘরে ফেরেন মাহমুদউল্লাহ। বাঁ-হাতি পেসার ইসুরু উদানাকে তুলে মারতে গিয়ে আউট হন ৪৩ রানে। ৩১ বলের ইনিংসে টাইগার অধিনায়ক ২টি করে চার-ছক্কা হাঁকান। এরপর সাব্বির রহমান ফিরেন ১ রান করে। তবে শেষ পর্যন্ত দলের হাল ধরে ছিলেন মুশফিক। ৪৪ বলে ৬৬ রানে অপরাজিত থাকেন ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান। দুর্দান্ত এ ইনিংসটি তিনি সাজিয়েছেন ৭টি চার আর একটি ছক্কায়। আরিফুল হক অপরাজিত থাকেন ১ রানে।
এর আগে তামিম ইকবালের অনুপস্থিতিতে সৌম্য সরকারের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধন করেন জাকির হাসান। অভিষেক ম্যাচে খুব একটা ভালো করতে পারেননি তিনি। ৯ বলে ১০ রান করে দানুষ্কা গুনাথিলাকার বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন এ ওপেনার। গেল বছরে ওয়ানডে এবং টেস্টে সৌম্য ভাল করতে না পারলেও টি টোয়েন্টিতে সতীর্থদের চেয়ে এগিয়ে। ৭ ম্যাচে ৩৩.৫৭ গড়ে ২৩৫ রান করেন। স্ট্রাইকরেট ১৫৬.৬৬।
দলে ফেরা লেগস্পিন অলরাউন্ডার মেন্ডিস দু’টি উইকেট লাভ করেন। একটি করে নেন গুনাথিলাকা, ইসুরু উদানা ও থিসারা পেরেরা।