ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা হবে: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘বাংলাদেশে ব্যাংকের সংখ্যা বেশি। বীমা কোম্পানির সংখ্যাও বেশি। তবে এতে ভয়ের কোনো কারণ নেই। কোনো প্রতিষ্ঠান (ব্যাংক-বীমা) সমস্যায় পড়লে সরকার ফেলে রেখে যাবে না। যেভাবেই হোক টিকিয়ে রাখা হবে।’

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাধারণ বীমা করপোরেশনের ২০১৬ সালের লভ্যাংশ চেক গ্রহণকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী এমন এক সময়ে একথা বললেন, যখন তারল্য সংকটের কারণে বেসরকারি খাতের ফারমার্স ব্যাংকের অবস্থা নাজুক। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংকের অবস্থাও আগের চেয়ে খারাপ। অনিয়ম-দুর্নীতি ও ব্যবস্থাপনা দুর্বলতার কারণে কারণে এসব ব্যাংকের আর্থিক ভিত নড়বড়ে হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে পর্যবেক্ষক দিয়ে চলছে ১৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংক। এর মধ্যে সাতটি সরকারি। এ অবস্থায় আরও তিনটি নতুন ব্যাংক দিতে যাচ্ছে সরকার।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমানে দেশে ৪৬টি জীবন বীমা কোম্পানি রয়েছে। চাহিদার তুলনায় এ সংখ্যা অবশ্যই বেশি।’

‘আমরা হুজুগে চলি’-এমন মন্তব্য করে মুহিত বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো বীমা কোম্পানি বিপদে পড়েনি। ফলে ভয়ের কোনো কারণ নেই।’

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার বীমা খাতের উন্নয়ন চায়। এ খাতে নিয়ন্ত্রণের অভাব ছিল। এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার অধীনে আছে। তবে এখনও বীমা খাত পরিপক্ক নয়। অনেক অভিযোগ আছে। বীমাদাবি ঠিকমতো পাওয়া যায় না। এই অভিযোগ বাড়ছে।’

তবে বীমা খাতের ভবিষ্যৎ ভালো হবে বলে আশাবাদী অর্থমন্ত্রী।

সাধারণ বীমা করপোরেশন প্রসঙ্গে মুহিত বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে চলছে। সে তুলনায় জীবন বীমা করপোরেশন ভালো চলছে না।’

অনুষ্ঠানে লভ্যাংশের ৪০ কোটি টাকার চেক অর্থমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন সাধারণ বীমা করপোরেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ শাহরিয়ার আহসান। আগের বছর লভ্যাংশ দেওয়া হয় ৩০ কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে সাধারণ বীমা করপোরেশন রাষ্ট্রায়ত্ত নন-লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি ২৮৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা মুনাফা করেছে। এর মধ্যে ৮২ কোটি ৫২ লাখ টাকা আয়কর দিয়েছে।

Be the first to write a comment.

Leave a Reply