বয়ে যাচ্ছে কাঁপুনি তোলা শীতের বাতাস

প্রকাশিত

শৈত্যপ্রবাহের কবলে দেশের বেশির ভাগ অঞ্চল। আজ বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়, ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই মৌসুমে এ পর্যন্ত এটাই সবচেয়ে কম তাপমাত্রা। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, সারা দেশের উত্তরাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের কিছু কিছু জায়গায় মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা আরও কয়েক দিন থাকতে পারে। দেশের মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে শীতের সঙ্গে কুয়াশাও পড়ছে।

রাজধানী ঢাকায় আজ সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটিও ঢাকায় এবার সবচেয়ে কম তাপমাত্রা। তাপমাত্রা আরও কমবে জানিয়ে বজলুর রশিদ বলেন, বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে আজ রাজশাহীতে ৮, ময়মনসিংহে ৮, খুলনায় ১০, বরিশালে ১০ দশমিক ৪, রংপুরে ৯, সিলেটে ১৩ দশমিক ৬, চট্টগ্রামে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। শ্রীমঙ্গলে ৮ দশমিক ৬, টাঙ্গাইলে ৮ দশমিক ৫, ফরিদপুরে ৯ দশমিক ৪, গোপালগঞ্জে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে আজ। এ রকম শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েকটি বয়ে যেতে পারে বলে জানান তিনি।

গতকাল বুধবার রাত থেকে ঘন কুয়াশা, বৃষ্টি ও আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রচণ্ড ঠান্ডা বাতাসের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অনেকটা ব্যাহত হচ্ছে চুয়াডাঙ্গায়। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হচ্ছে না। বেড়েছে শীতজনিত রোগ। সদর হাসপাতালের ১৩ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে আজ সকাল পর্যন্ত ধারণক্ষমতার প্রায় তিন গুণ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। বহির্বিভাগে অসংখ্য শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে।

সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শামীম কবীর জানান, শিশুদের বেশির ভাগই শীতজনিত রোটা ভাইরাস ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। তাপমাত্রা এভাবে কমতে থাকলে শীতজনিত রোগাক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সে জন্য আগে থেকেই হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক রাখা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামাদুল ইসলাম জানান, চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে এখন মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা নেমে আসার পাশাপাশি ঘনকুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে।