মঠবাড়িয়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সমাবেশে সংঘর্ষ, আহত ২০

প্রকাশিত

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় মঙ্গলবার বিকেলে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সমাবেশে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোল্লা আবু কাওসারসহ সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে মঠবাড়িয়া উপজেলার হাতেম আলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় মাঠে স্বেচ্ছাসেবক লীগ বিজয় দিবস উপলক্ষে সমাবেশের আয়োজন করে। বিকেল পাঁচটার দিকে সমাবেশ চলাকালে স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিবদমান দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক বাবু শরিফ (৪০), উপজেলা ছাত্রলীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক নাজমুল হাসান (২৬), ছাত্রলীগ কর্মী আরিফ হোসেন (২০), ইমরান (২০), যুবলীগ কর্মী আবদুর রহমান (২২), শ্রমিক লীগ কর্মী ইব্রাহিম (২২), আওয়ামী লীগ কর্মী সালাম জমাদ্দার (৭০), আবদুল মজিদ (৬৫), খলিল হাওলাদার (৫০), খলিলুর রহমান (৩২) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। আরিফ হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সোনিয়া আক্তার বলেন, আহত ২০ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এঁদের মধ্যে ১০ জন ভর্তি হয়েছেন। একজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্যরা চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক মাতুব্বর বলেন, বড় সমাবেশে টুকটাক মারামারি হতে পারে। এটা দলের জন্য কোনো সমস্যা নয়। মঠবাড়িয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষ রয়েছে। এক পক্ষে রয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র রফিউদ্দিন আহমেদ। আরেক পক্ষে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমান। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই নেতার অনুসারীরা প্রায়ই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

২০১৬ সালের ২৫ জুলাই আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে যুবলীগ কর্মী লিটন পণ্ডিত গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। গত দুই বছরে দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে অন্তত ৩০ বার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।