মদনে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্বে ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ ৬ প্রধান শিক্ষকের পদ অনিশ্চিত

প্রকাশিত

মদন,নেত্রকোনা প্রতিনিধি: মদনে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পদোন্নতি প্রাপ্ত শিক্ষকরা এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রধান শিক্ষকগণ প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পদোন্নতি প্রাপ্তের সকল কাগজ পত্র প্রেরণ করেও কোন সুফলতা পাচ্ছেন না। এতে ৬ প্রধান শিক্ষকের পদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
অভিযোগে প্রকাশ, উপজেলার ৬ টি জাতীয় করণ বিদ্যালয়ের পদোন্নতি প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের পদ গোপন করে সহকারি জুনিয়র শিক্ষকদের চলতি দায়িত্বে আনার জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষাকর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গ্রেডেশন তালিকা প্রেরণ করেন শিক্ষা কর্মকর্তা। ১৫শ বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণী থেকে শুরু যাহা অদ্যবাধি প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টি হয়নি তবুও ৪টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য দেখানো হয়েছে। তৃতীয় ধাপের দুটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক গেজেট প্রকাশ হয়নি তবুও ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য দেখানো হয়েছে। এছাড়া বাজিতপুর বেসরকারি প্রাথকিম বিদ্যালয়ের মামলা সংক্রান্ত জঠিলতায় শিক্ষক গেজেট প্রকাশ হয়নি অথচ উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য দেখানো হয়েছে। জাতীয়করণকৃত ৬টি বিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে শাহাপুর-২, শ্রীধরপুর, গোবিন্দশ্রী বড্ডা,সুতিয়ারপার, ফেকনি ও মাঘান ইউএ খন্দকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ প্রায় ২৫ বছর যাবৎ কর্মস্থলে যোগদান থেকে এ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। জুনিয়র সহকারি শিক্ষকদের চলতি দায়িত্ব দেওয়ার জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার যোগসাজুশে প্রায় ৫লাখ টাকা বানিজ্য করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। তারা অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, এখন তাদের কে ওই দায়িত্ব দেওয়ার জন্য নানা কলাকৌশল অবলম্বন করছেন শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আবুল হোসেন। পদোন্নতির শতকরা ৬৫ ভাগ হারে মদন উপজেলায় চলতি দায়িত্বের পদে ২২ জন এর মধ্যে প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রাণালয়ের তালিকায় ৩২ জনের নাম প্রকাশ করা হয়। যা অনিয়ম এবং দূর্নীতির মাধ্যমে শূন্য পদ অধিক দেখানো হয়েছে।
ভূক্তভোগী প্রধান শিক্ষক, মোঃ মানিক মিয়া, হাফিজুর রহমান, জিয়াউল হক, তাজুল ইসলাম, খন্দকার মরিয়ম আক্তার, শ্রী গৌতম দে বলেন, আমরা প্রায় ২৫ বছর ধরে উক্ত বিদ্যালয় গুলোতে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমাদেরকে উক্ত পদ থেকে বি ত করার জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জেলা কর্মকর্তার যোগসাজুশে প্রায় ৫ লাখ টাকার বানিজ্য করে উক্ত বিদ্যালয় গুলোর প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য দেখান। যা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের যুগ্ন সচিব পুলক রঞ্জন শাহার ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭ ইং তারিখের চিঠি উপেক্ষা করা হয়। হাই কোর্টে রিট করে উক্ত পদে বহাল থাকার জন্য ৬ অক্টোবর ২০১৫ ও ১০ জানুয়ারি ২০১৬ এবং চলতি দায়িত্বে থাকার জন্য ১৭ জানুয়ারি ২০১৮ ইং তারিখে আমরা স্বপক্ষে রায় পাই । এ ব্যাপারে আমরা ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কৃর্তপক্ষের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করছি।
প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আবুল হোসেন বলেন,আমি প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক তাদের নামসহ গ্রেডেশন তালিকা প্রেরণ করেছি। মন্ত্রনালয় যাচাই বাচাই করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন। এতে আমার কোন হাত নেই। তবে এ ব্যাপারে টাকা নেওয়ার কোন প্রশ্নই উঠেনা।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ে প্রমোশন পাওয়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ.কে.এম রিয়াজ উদ্দিন জানান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা যদি ভুল তালিকা প্রেরণ করেন তা হলে তারই সংশোধন করতে হবে। ভুলের দায়িত্ব আমরা নেব না। টাকার বিনিময়ে আমরা কোন কাজ করি না।