‘মফস্বল ছেড়ে আসা ডাক্তারদের চাকরির প্রয়োজন নেই’

প্রকাশিত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা মফস্বল ছেড়ে শহরে চলে আসে তাদের চাকরি করার প্রয়োজন নেই। দয়া করে তারা বিদায় নিয়ে বাড়ি চলে যাক। আমাদের অনেক শিক্ষার্থী এখন পড়াশোনা করছেন। প্রয়োজনে তাদের নিয়োগ নেয়া হবে। তারা এসে প্রত্যন্ত এলাকায় চিকিৎসা দেবে। আমরা তাদের নিয়োগ দেব।’

বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব বাজেটের অর্থে সংগৃহীত সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনকালে একথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক। মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রী মুখ্যসচিব, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব, প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জাপান থেকে আনা সর্বাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিককে। প্রথম ধাপে সাতটি দেয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকে ৫শ অ্যাম্বুলেন্স দেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ডাক্তার আমরা নিয়োগ দিচ্ছি। কিন্তু যেই আমরা উপজেলায় পাঠাচ্ছি সেখানে না থেকে অন্য জায়গায় যাচ্ছে। সরকারি চাকরি হলেই এ সমস্যাটা হয়। যেই আমরা দিয়ে দিচ্ছি, অমনিই যেকোনোভাবে কায়দা-কানুন করে ঢাকায় চলে এসে বসে থাকবে।

তিনি বলেন, এভাবেই যদি কেউ চলে আসে তাহলে তো তার আর চাকরি করার দরকার নেই। ঢাকায় বসে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করলেই তো অনেক টাকা পাবে। দয়া করে তারা বিদায় নিয়ে বাড়ি চলে যাক আমরা নতুন নিয়োগ দেবো। প্রতিনিয়িত ছেলেমেয়েরা লেখা-পড়া শিখে চাকরি খুঁজে বেড়াচ্ছে।

উপজেলা ও মফস্বল পর্যায়ে ডাক্তারদের আবাসন সমস্যার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সমস্যা আমি খুঁজে বের করেছি, তাদের আবাসিক সমস্যাটা। উপজেলায় গেলে সেখানে তাদের থাকার খুব একটা জায়গা নেই।

স্বাস্থ্যসেবায় আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা আমরা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছি। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

এসময় উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসকসহ সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন সমস্যা সমাধানে বহুতল ভবন নির্মাণ করতে ইতোমধ্যে গণপূর্তকে নির্দেশ দেয়ার কথা জানান তিনি।

প্রথম ধাপে দেয়া সাতটি অ্যাম্বুলেন্সের চাবি ঢাকায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, বান্দরবান সদর হাসপাতালসহ গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া, গাজীপুরের কালিয়াকৈর, খুলনার ফুলতলা, কুড়িগ্রামের রাজীবপুর, নেত্রকোনার কেন্দুয়া ‍উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সের একটা চাকা যদি নষ্ট হয়, সে চাকার জন্য সরকারি টাকার আবেদন করে আনতে আনতে চার চাকাই নষ্ট হয়ে যায়, অথবা অ্যাম্বুলেন্সটা বসেই যায়।’

এই সমস্যার সমাধানটাও বাতলে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স তো কিছু কামাইও করে। অ্যাম্বুলেন্সে করে রোগী আনলে তো সে কিছু ভাড়াও পায়। সেখানে আমার মনে হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে কোনো একটা উদ্যোগ নেয়া দরকার, অথবা একটা ফান্ড করা দরকার যেখান থেকে যদি কখনও কিছু একটা নষ্ট হলে অথবা সামান্য একটু খারাপ হলে।’

‘একটা ফান্ড কীভাবে রাখা যেতে পারে, তাৎক্ষণিকভাবে খরচ করবে, তারপর বিল দেবে, তারপর টাকাটা পাবে।’ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে চিন্তা করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি অ্যাম্বুলেন্স কিন্তু দিয়েই যাচ্ছি, এর আগেও চারশ-পাঁচশ অ্যাম্বুলেন্স যখনই সরকারে আসছি, তখনই দিচ্ছি। এত তাড়াতাড়ি এগুলো তো নষ্ট হওয়ার কথা না।’ এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দিলে তারা সেগুলো গ্রহণ করে না।

এর জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘না, ফাইনান্স মিনিস্টার কোনো কিছু আরগু করবে না, এটা নিয়ম, কিন্তু সে জন্য আমাদেরকে তো একটা বিষয় ডেভেলপ করতে হবে, আপনারা করে দিন, আমি পাস করে দেব।

Be the first to write a comment.

Leave a Reply