মহাখালী থেকে ৩ কিশোর উধাও

প্রকাশিত

দিনকাল রিপোর্ট : মহাখালী ওয়ারলেস গেট যমুনা ব্যাংকের সামনে থেকে তিন কিশোরকে তুলে নেয়ার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও ওই কিশোরদের খোঁজ মেলেনি। এমনকি কেউ তাদের পরিবারের কাছে মুক্তিপণও চায়নি। এদিকে ভুক্তভোগী এক পরিবারের অভিযোগ, থানায় জিডি করতে গেলেও পুলিশ জিডি নেয়নি। : অপহৃত তিন কিশোর হলেন- রাসেল গাজী, আবু হানিফ ও নাসির। গত রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই তিন কিশোরের একজন হানিফকে যমুনা ব্যাংকের সামনে থেকে তুলে নিতে দেখেন ব্যাংকের নিরাপত্তারী আলামিন। এরপর হানিফের পরিচিত এক ব্যক্তির কাছে হানিফকে তুলে নেয়ার বিষয়টি জানান আলামিন। কিছুণের মধ্যে আশেপাশের আরো দুই কিশোরকে তুলে নেয়ার অভিযোগ আসে তাদের পরিবারের প থেকে। : জানা যায়, ওই তিন কিশোরের বয়স ১৪ থেকে ২০ বছরের মধ্যে হবে। এর মধ্যে আবু হানিফ যমুনা ব্যাংকের কিনারের কাজ করত। পাশাপাশি পড়ালেখাও করত। নিরাপত্তারী আলামিন  বলেন, কালো গ্লাসওয়ালা একটা সাদা হাইয়েচ গাড়িতে আসা দুজন লোক হানিফকে জোর করে তুলে নিয়ে চলে যায়। স্থানীয় মোল্লা জালাল নামে একজন জানান, তারা রাসেলকে অপহরণের বিষয়ে জানতে পারেন। রাসেল গার্মেন্টকর্মী। কে বা কারা তাকে তুলে নিয়েছে তা বুঝতে পারছেন না। রাসেলের দাদি হালিমা আহাজারি করে বলেন, আমার নাতিকে ফেরত চাই। নাতিকে তোমরা এনে দাও বাবা। : এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, থানা পুলিশ জিডি নিচ্ছে না। বনানী থানায় জিডি করতে গেলেও পুলিশ জিডি নেয়নি বলে জানান অপহৃত রাসেলের মা রিনা বেগম। তবে বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরমান আলী বলেন, জিডি নেয়ার জন্য পরিবারের সদস্যদের থানায় আসতে বলা হয়েছে। তারা এলেই জিডি নেয়া হবে। এখনো কেউ আসেনি। : অপহৃত নাসিরের মা নুরজাহান বেগম জানান, তার ছেলে ছোটবেলা থেকে কড়াইল বেলতলা এলাকায় মামার বাড়িতে থাকত। নাসিরের মা আরও জানান, তার ছেলে টঙ্গি সরকারি কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষের পরীা দিয়েছে। চার মাস হলো তার চাচাতো বোনকে পালিয়ে সে বিয়ে করেছে। এ জন্য তার চাচা প্রায়ই হুমকি দিত। তার চাচাও অপহরণ করতে পারে বলে নাসিরের মা অভিযোগ করেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে,  মাঝে মাঝেই আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপ এসব গ্রেফতারের খবর অস্বীকার করে। সরকারের কিছু কর্মকর্তা বলে থাকেন নিখোঁজ ব্যক্তিরা ‘স্বেচ্ছায় আত্মগোপন’ করে আছেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, অপহৃত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের আনা  অপহরণের এসব অভিযোগ পুলিশ গ্রহণ করে না। : এ বছরের শুরুর দিকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘২০১৩ সাল থেকে কয়েক শ মানুষকে অবৈধভাবে আটক করেছে আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপ’। শুধু গত বছরেই ‘জোরপূর্বক গুমের শিকার’ হয়েছেন  ৯০ জন। : :

Be the first to write a comment.

Leave a Reply