মহালয়ের সাথে সাথে পূজার দিন গননা শুরু

প্রকাশিত

মাহবুব হোসেন পিয়াল,ফরিদপুর-
সোমবার ভোরে মহালয়ের সাথে সাথে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দূর্গাপূজার দিন গননা শুরু হলো। এরই মাঝে দূর্গা পূজা উপলক্ষে ফরিদপুর জেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চলছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনা। পূজা উপলক্ষে জেলার সাড়ে সাত শতাধিক মন্দিরে মন্দিরে চলছে রং তুলির শেষ পর্যয়ের কাজ। জেলার পাল সম্প্রদায়ের কারিগররা এখন রাতদিন ব্যস্ত প্রতিমা ফুটিয়ে তোলার কাজে।
৮ অক্টোবর মহালয়ার মধ্যে দিয়ে শারদীয়া দূর্গোৎসবের শুভ সূচনা হলো। এরপর ১৪ অক্টোবর হবে দূর্গার বোধন ১৫ অক্টোবর মহা ষষ্ঠীর মধ্যে দিয়ে শুরু হবে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা যা শেষ হবে ১৯ অক্টোবর দশমী দেবীর বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে।
এরই মাঝে জেলার প্রতিটি মন্দির সাজতে শুরু করেছে নানা আয়োজন নিয়ে। ফরিদপুরের ধোপাডাঙ্গা এলাকার সিআইপি যশোদা জীবন দেবনাথের বাড়িতে বৃহৎ পরিসরে প্রায় আড়াইশ প্রতিমা নিয়ে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পৌরাণিক কাহিনী মহা ভারত ও রামায়ণের গল্পকথা যেন মূর্ত হয়ে উঠেবে ফরিদপুরের ধোপাডাঙ্গার যশোদা জীবন দেবনাথের বাড়ির দুর্গোৎসবে। এখানে দেবী দুর্গার প্রতিমা ছাড়াও স্থান পাবে প্রায় আড়াইশ প্রতিমা।
মৃৎশিল্পীরা দুই মাস ধরে রাত-দিন পরিশ্রম করে রামায়ণ ও মহা ভারতের কাহিনীকে যেন বাস্তবে নামিয়ে আনার কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। ব্যতিক্রমী এই পূজার আয়োজন দেখতে পূজার আগে থেকেই এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসছেন দর্শনার্থীরা।
এছাড়াও ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা শরৎ সাহার বাড়ী, পুরাতন বাসষ্টান্ডের দুটি পূজা, কাসার পট্্ির, সোনার পট্রি, শিবরামপুরের তপন ডাক্তারের বাড়ীর পূজা সাজছে নানা আয়োজন নিয়ে।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ জাকির হোসেন খানঁ বলেন, শান্তিপূর্নভাবে দূর্গা পূজা শেষ করতে সকল প্রস্ততি সম্পন্ন করা হয়েছে। মন্দির গুলোতে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, আনসারসহ মোবাইল টিম কাজ করবে। নিরাপত্তা দিতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা হাতে নেয়া হয়েছে পূজা মন্ডপ গুলোতে। এদিকে পূজা উপলক্ষে জেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন জেলা শহর ও উপজেলা শহরের বিপনী বিতান গুলোতে ভীর জমাচ্ছেন নতুন নতুন পোশাক, গহনা, জুতা-সেন্ডেল ও বিভিন্ন ধরনের জিনিষ কেনাকাটার ব্যাপারে।
এবার ফরিদপুরের নয় উপজেলার সাড়ে সাত শতাধিক মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।