লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের মাদারীপুরে

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক-
উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদারীপুরে মামলা হয়েছে। লিবিয়ায় নিখোঁজ জুয়েলের বাবা রাজ্জাক হাওলাদার বাদী হয়ে দালাল জুলহাস সরদারসহ ৪ জনের নামে মানব পাচার আইনে রাজৈর থানায় এ মামলাটি দায়ের করা হয়।
জানা গেছে, লিবিয়ায় গুলিতে নিহত ২৬ বাংলাদেশির মধ্যে মাদারীপুরেরই ১১ জন ছিলেন। ফলে লিবিয়ায় এই ঘটনার খবর শুনে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে নিখোঁজ যুবকদের অভিভাবক ও এলাকাবাসী মিলে বাংলাদেশি দালাল রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মজিদ শেখের ছেলে জুলহাস সরদারের বাড়িতে হামলা চালায়। খবর পেয়ে রাজৈর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডেরে বাসিন্দা নিখোঁজ জুয়েল হাওলাদারের বাবা রাজ্জাক হাওলাদার ও মা রহিমা বেগম বলেন, আমাদের ছেলেসহ রাজৈরের বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকজনকে দালাল চক্র লিবিয়া নেওয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৪/৫ লাখ টাকা চুক্তি করে নিয়ে যায় ৩/৪ মাস আগে। তারপর লিবিয়ার ত্রিপলী না নিয়ে বেনগাজী নামে এক গ্রামে আটকে রেখে নির্যাতন শুরু করে। এরপর ভয়েজ রেকর্ডে নির্যাতনের শব্দ পাঠিয়ে আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করে। আমরা হোসেনপুর জুলহাস সরদার নামের ওই দালালের বাড়িতে গিয়ে ১০ লাখ টাকা দিয়ে আসি। লিবিয়ায় গুলি করে অনেক বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয়েছে। আমার ছেলেকেও পাচারকারীরা হত্যা করেছে।
একই গ্রামের নিখোঁজ মানিক হাওলাদারের পিতা শাহ আলম হাওলাদার বলেন, আমার ছেলে মানিককে লিবিয়া নেওয়ার কথা বলে দালাল জুলহাস সরদার আমার কাছ থেকে প্রথমে ৪ লাখ টাকা নিয়েছে। পরে ছেলেকে বেনগাজী আটকে রেখে ভয়েজ রেকর্ডের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। আমি আমার ছেলেকে আনতে জুলহাসের বাড়ি গিয়ে টাকা দিয়ে আসি। এই ঘটনায় রবিবার রাজৈর থানায় জুলহাসসহ ৪ জনকে আসামি করে মানব পাচার আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রাজৈর থানার ওসি শওকত জাহান বলেন, লিবিয়ায় লোক নেয়া দালাল রাজৈরের জুলহাস সরদারসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তবে করোনা সাসপেক্ট হওয়ায় জুলহাস সরদার মাদারীপুর সদর হসাপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি রয়েছেন।