মাধবপুরে সরকারি ঔষধ বিতরণ না করে ফেলা হলো খালে, এলাকাবাসীর ক্ষোভ!

প্রকাশিত
হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার দক্ষিণ বেজুড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি সুমন চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে ব্যপক অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি সরকারি ঔষধ থাকার পরও তিনি বিতরণ না করে নষ্ট করে আসছেন দিনের পর দিন। এ ব্যপারে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। এবিষয়ে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইশতিয়াক আল মামুনের কাছে মৌখিক অভিযোগ দিয়েও কোন ফল পাননি গ্রামবাসী।
গ্রামবাসীর অভিযোগ- দীর্ঘ ৭/৮ বছর ধরে দক্ষিণ বেজুড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে সিএইচসিপি পদে চাকরি করে আসছেন ওই গ্রামের সুবোধ চন্দ্র দাসের ছেলে সুমন চন্দ্র দাস। নিজ এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় আলাদা দাপট দেখান তিনি। গ্রামের হতদরিদ্র ও নিরিহ মানুষরা ঔষধের জন্য গেলে ক্লিনিকে ঔষধ নাই বলে বিদায় করে দেন। অথচ দিনের পর দিন ঔষধপ্রাপ্তি থেকে গ্রামবাসী বঞ্চিত হলেও সেই ঔষধ মেয়াদ উর্ত্তীর্ণ হওয়ার পর নদীতে ফেলে দিচ্ছেন সুমন। এ ব্যপারে গ্রামবাসী প্রতিবাদ করলেও তাদেরকে দেয়া হয় বিভিন্ন হুমকি-ধামকি।
রোববার বিভিন্ন ধরণের মেয়াদ উত্তীর্ণ সরকারি ঔষধ খালে ফেলে দেন সুমন। এ সময় গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইশতিয়াক আল মামুনকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিষয়টি অবগত করেন গ্রামসবাসী। কিন্তু বিষয়টিতে কোন পাত্তাই দিলেন না তিনি।
এদিকে, অভিযোগ রয়েছে দিনের পর দিন তিনি কমিউনিটি ক্লিনিকে উপস্থিত না হয়ে নিজের ব্যক্তিগত ফার্মেসীতে সময় দেন। এমনকি সরকারি অনেক ঔষধ তিনি নিজের ফার্মেসীতে রেখে বিক্রি করে আসছেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সিএইচসিপি সুমন চন্দ্র দাস বলেন- ‘অনেক ঔষধের এক মাসের বেশি মেয়াদ থাকে না। সেগুলো প্রায় সময় মেয়াদ উর্ত্তীণ হয়ে যাওয়ার ফেলে দিতে হয়।’ বাকি অভিযোগগুলো অস্বীকার করে জানান- গ্রামের কিছু মানুষের সাথে তার ব্যক্তিগত বিরোধ রয়েছে। তারা মুলত তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে।
তবে জানতে চাইলে নিজের কর্মীর সাফাই গাইলেন মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইশতিয়াক আল মামুন। সুমন দাসের সাথেই সুর মেলালেন তিনিও।