মামলা তুলে নিতে টাকা সাধাসাধি

প্রকাশিত

সংবাদ সম্মেলনে শাহ জালালশাহ জালাল ওরফে শাহ জামালের দুই চোখ তুলে নেওয়ার অভিযোগে পুলিশের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শাহ জালালের বাবা মো. জাকির হোসেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলা তুলে নিতে খুলনার খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম খান তাঁকে সাত লাখ টাকা দিতে চেয়েছিলেন।

গতকাল শনিবার খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করে শাহ জালালের পরিবার। শাহ জালালের পরিবারের নিরাপত্তা, দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া ও ন্যায়বিচারের দাবিতে পরিবারের পক্ষ থেকে ওই সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শাহ জালালের স্ত্রী রাহেলা বেগম, মা রেনু বেগম ও বাবা জাকির হোসেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাকির হোসেন বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা আদালত প্রাঙ্গণে ওসি নাসিম খান ও উপপরিদর্শক (এসআই) তাপস এসে মামলা তুলে নিতে সাত লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করেন। কিন্তু তিনি টাকা নিতে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘দেশের বাইরে নিয়ে চিকিৎসা করিয়ে শাহ জালালের চোখ ঠিক করে দিতে ওসিকে বলেছি।’

শাহ জালাল ওরফে শাহ জামালের বাড়ি পিরোজপুরের কাউখালীতে। পরিবারের ভাষ্য, শাহ জালাল একজন সবজি ব্যবসায়ী। স্ত্রীকে বাড়ি নিয়ে যেতে গত ১৭ জুলাই খুলনা নগরের খালিশপুর নয়াবাটি এলাকায় শ্বশুরবাড়ি এসেছিলেন। পরদিন ১৮ জুলাই রাতে খালিশপুরের গোয়ালখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ছিনতাইয়ের অভিযোগে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সেই রাতেই স্ত্রী ও শাশুড়ির সঙ্গে থানায় শাহজালালের দেখা হয়। তখনো তাঁর চোখ ভালো ছিল। কিন্তু পরদিন ১৯ জুলাই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তাঁরা শাহ জালালের চোখ নষ্ট দেখতে পান। ওই দিন সকালে ছিনতাইয়ের অভিযোগে সুমি আক্তার নামের এক কলেজছাত্রী শাহ জালালসহ দুজনের বিরুদ্ধে খালিশপুর থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় শাহ জালাল জামিনে আছেন।

গত ৭ সেপ্টেম্বর ‘নির্যাতন’ করে শাহ জালালের দুই চোখ নষ্ট করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে খালিশপুর থানার ওসি নাসিম খানসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন শাহ জালালের মা রেনু বেগম। সেই মামলা তুলে নিতেই পুলিশের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠল।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওসি নাসিম খান বলেন, ঘটনা সত্য নয়। তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। শাহ জালালের পরিবার এর আগেও একবার খুলনা-৩ আসনের সাংসদ মন্নুজান সুফিয়ানের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে ঘটনা মীমাংসা করার অভিযোগ তুলেছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে শাহ জালালের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আইনজীবী ঈশ্বর চন্দ্র সানা। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, তাঁরা আশা করেছিলেন, মামলার তদন্ত চলাকালে ওসি নাসিম খানকে ওই থানা থেকে প্রত্যাহার করা হবে। কিন্তু তাঁকে প্রত্যাহার না করায় তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিদের প্রভাবিত করে শাহ জালালের পরিবারের সদস্যদের মামলা প্রত্যাহারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের প্রস্তাবসহ বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখাচ্ছেন। কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করায় বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তদন্তকালে ওসি বিভিন্নভাবে তদন্তে প্রভাবিত করছেন। আর এ কারণেই পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল না করে বারবার সময় চাচ্ছে।

এদিকে শাহ জালালের মায়ের করা মামলাটি আমলে নিয়ে বিচারক ১৭ সেপ্টেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেছিলেন। সেদিন বিচারক মামলাটির তদন্তভার দেন পিবিআইকে। গত ১৮ অক্টোবর মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছিল। এর মধ্যে ওই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু পিবিআই পরপর তিনবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সময় নিয়েছে। ১৫ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী দিন ধার্য আছে।

বারবার সময় চাওয়ার কারণ জানতে চাইলে পিবিআই খুলনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনিছুর রহমান বলেন, তদন্তের স্বার্থেই বারবার সময় চাওয়া হয়েছে। তবে এবার নির্ধারিত দিনেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।