মিরপুরে গোপনে মাদ্রাসার জমি বিক্রি: বসতবাড়ি নির্মাণ!

প্রকাশিত

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার মিরপুরে গোপনে নাজমুল উলুম ফাযিল মাদ্রাসার  জমি বিক্রি করলেন দুই শিক্ষক। মাদ্রাসাটির সাড়ে ৭কাঠা জমি বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ও এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। জমি বিক্রির ঘটনায় উপজেলা এলাকাজুড়ে তোলপাড় চলছে।

মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ মো. সালেহ উদ্দিন ও সহকারী অধ্যাপক মতিয়ার রহমান দু’জন গোপনে এই জমি বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আর ওই জমি কিনেছেন উপজেলার আমলা ইউনিয়নের তিলকান্দ্রা এলাকার আর্জিনা খাতুন ও একই গ্রামের শামীম।

এদিকে জমি বিক্রয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি সরাসরি যুক্ত না থাকলেও সম্মতি রয়েছে তার। জমি বিক্রয়ের টাকা নেওয়া হলেও তা রেজিস্ট্রি করা হয়নি এমনটাই স্বীকার করেছেন সভাপতি নিজেই। অন্যদিকে জমি বেচা-কেনার বিষয়টি মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সালেহ উদ্দিন অস্বীকার করলেও স্বীকার করেছেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাজী এনামুল হক। এ সংক্রান্ত মুঠোফোনে কথোপকথনের রেকর্ড এই নিউজের প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষণ রয়েছে। জমি বেচা-কেনার ঘটনাটি নিয়ে ভেতরে ভেতরে অস্বস্তিতে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারীদের। প্রতিষ্ঠানের জমি গোপনে বিক্রি করায় ক্ষোভ-প্রকাশ করেছেন তারা।

নামপ্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষক ও কর্মচারীরা জানান,জমিটি মাদ্রাসা এলাকার বাইরে হওয়ার সুযোগেই গোপনে এমন কাজ করেছেন তারা। কখন কি হচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানে বুঝতে পারছি না। গোপনে সরকারি মাদ্রাসার একটি জমি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। কিছু দিন আগেও এ প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদে নিয়োগ নিয়েও ঝামেলা হয়েছে। এখন আবার জমিও হারিয়ে যাচ্ছে। এমন নানান অসঙ্গতিতে চলছে এ প্রতিষ্ঠান। তাই এমন কাজের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দাবি জানান তারা।

তিলকান্দ্রা এলাকার আর্জিনা খাতুন মাদ্রাসার জমি কেনার কথা স্বীকার করে বলেন,এখানে আমাদের কোনো অপরাধ নাই। এটি মাদ্রাসারার জমি একসময়ে মাদ্রাসায় জমিটি দান করেছিলেন নয়নপুর এলাকার হিসা ডাক্তার নামে একব্যক্তি। এটা আমাদেরও জানা। গ্রামের আমিরুল জানায় জমিটি বিক্রয় হবে। তাই মাদ্রাসাটির মতিয়ার স্যার ও মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল সালেহ উদ্দিন স্যারের কাছে গিয়ে জমি কিনার টাকা গুলো দিয়েছি।

একই এলাকার শামীম বলেন, মাদ্রাসাটির সভাপতি হাজী এনামুল হকের সঙ্গে কথা বলেই টাকা গুলো দিয়েছি। তবে দ্রুত জমিটি রেজিস্ট্রি করার কথা থাকলেও দেশে চলমান লকডাউনের কারণে তা করা সম্ভব হয়নি। কয়েকদিনের মধ্যে জমিটি রেজিস্ট্রি করে দিবেন বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে সহকারী অধ্যাপক মতিয়ার রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,তারা এখন অনেক কথা বলতেই পারে। জমি বিক্রি করবে সভাপতি। আমরা তো বিক্রি করার মালিক নয়। তবে বেচা-কেনার ব্যাপারে কথা হয়েছিল।

মিরপুর নাজমুল উলুম ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সালেহ উদ্দিন বলেন,জমি বেচা-কেনার ব্যাপারে কথা হয়েছিল। তারা একদিন মাদ্রাসাও এসেছিলেন। তবে এভাবে মাদ্রাসার জমি বিক্রি করা যায় না বলেই আমি কিছুই বলিনি। তবে তাদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। শুনেছি তারা জমিটির উপর বসতবাড়ি নির্মাণ করেছেন। তাই তাদের উচ্ছেদে পুলিশ পাঠানো হবে।

মিরপুর নাজমুল উলুম ফাযিল মাদ্রাসা পরিচালনা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র হাজী এনামুল হক বলেন,জমিটি বেচা-কেনার কথা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে টাকাও নেওয়া হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হবে। আমি প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি জমি বিক্রয়ে মৌখিকভাবেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে এখানে নিয়মের কোন ব্যত্যয় ঘটলে তা সমাধান করা হবে।

মিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জুলফিকার হায়দার বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের জমি বিক্রয় করার কোনো সুযোগ নেই। তবে লিখিত অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন,বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।