মির্জা ফখরুল ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক

প্রকাশিত

স্টাফ রিপোর্টার: খালেদা জিয়াই বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের নেত্রী বলে সাফ জানিয়েছে দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল রোববার বিকেল ৫টায় চেয়ারপার্সনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়াই হচ্ছেন ২০ দলীয় জোটের নেত্রী। এতে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়। আর আমি সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছি। আমিই সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করবো। বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার সাজার প্রতিবাদে বিএনপি যে কর্মসূচিগুলো দিয়েছে তার সাথে জোট একাত্মতা ঘোষণা করেছে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে ২০ দলীয় পক্ষে থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বিএনপি তিন দিনের কর্মসূচিতে জোট সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে বলেও বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। তিনি আরো জানান, ভবিষ্যতে ২০ দলীয় জোটের ঐক্যকে আরো প্রসারিত করার জন্য অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কথা বলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৈঠকে বর্তমান স্বৈরাচার সরকারের গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে যাতে হতে পারে, তার জন্য একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানানো হয়েছে। খালেদা জিয়াসহ সকল গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিও বৈঠকে জানানো হয় বলে জানান ফখরুল। বিএনপির মহাসচিব বলেন, সভায় সর্ব সম্মতিক্রমে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তার মধ্যে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো মামলায়, একটি জাল নথির ওপর ভিত্তি করে ২০ দলীয় জোটের নেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলায় রায় দিয়ে তাকে ৫ বছরের সাজা দেয়া হয়েছে। বৈঠকে জোট তার নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। একই সাথে খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়ারও নিন্দা জানানো হয়েছে। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে খালেদা জিয়াকে নি:শর্ত মুক্তি দেয়ারও দাবি জানানো হয়েছে বৈঠকে।
বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় পার্টির মোস্তফা জামাল হায়দার, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, জাগপা সভাপতি অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান, ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, পিপলস লীগের চেয়ারম্যান গরীবে নেওয়াজ, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামী ঐক্যেজোটের (একাংশ) আব্দুর রকিব, ন্যাপ ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন, ডেমোক্রেটিক লীগের সাইফুদ্দিন মুনি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান, এনডিপির খন্দকার গোলাম মূর্তজা, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।