মুক্তিযোদ্ধাদের সব চিকিৎসা সেবা মার্চ থেকে ফ্রি : মোজাম্মেল হক

প্রকাশিত
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের যথার্থ সম্মান দিয়েছেন। সমস্ত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবার জন্য যত ধরণের টেস্ট, ঔষধসহ আনুষাঙ্গিক সকল কিছু বিনামূল্যে দেয়া এ স্বাধীনতার মাস মার্চ থেকে শুরু হবে। আজ একনেকের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে ৭ হাজার বাড়ি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দেয়া হবে। যেসকল মুক্তিযোদ্ধাদের নিজস্ব ঘরবাড়ি নেই তাদের জন্য এ বাসস্থানের ব্যবস্থা আমরা করে দেবো।
তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা যে সকল মুক্তিযোদ্ধারা যারা জীবিত আছি তাদের প্রত্যেকের কবর একই ডিজাইনে করার ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া সমস্ত মুক্তিযোদ্ধাদের বক্তব্য কমপক্ষে ১০ মিনিট করে ধারণ করে সংরক্ষণের ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে নবনির্মিত নারায়ণগঞ্জ জেলা ‘মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স’ ভবন এর উদ্বোধনকালে বৃহস্পতিবার (৮ মার্চ) বিকেলে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরো  আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন যত জায়গায় বধ্যভূমি রয়েছে সেগুলোকে সংরক্ষণ করা হবে। সমস্ত রাস্তাঘাটের নামকরণ মুক্তিযোদ্ধাদের নামে করার একটা সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে নেয়া হয়েছে। পাঠ্যসূচীতে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা যেমন লেখা থাকবে একইভাবে পাকহানাদার বাহিনীর দোসর জামাতে ইসলামীর কি ভূমিকা ছিলো হত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, কয়েকটি সূচীতে লেখা থাকবে।
তিনি বলেন, এখন থেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যত চাকুরী হবে তাদের একটি তালিকা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একটি করে কপি যাবে। যাতে করে চিহ্নিত করা যায়। মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য প্রদানে সকল কিছু ওয়েবসাইটে দিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের ডিজিটাল সার্টিফিকেট দেয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সরকার মুক্তিযোদ্ধার সরকার। তাই এ সরকারকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের যা যা করবার তা আমরা করবো।
জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য বেগম হোসনে আরা বাবলী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো.বাদল, নারী মুক্তিযোদ্ধা ফরিদা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মতিয়ার রহমানসহ জেলার ৫টি উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা।