মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের ফ্ল্যাট দখলকারীদের উচ্ছেদের সুপারিশ

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: অসহায় যুদ্ধাহত ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বাইরে যেসব মুক্তিযোদ্ধা ঢাকার মোহাম্মদপুরে গজনবী রোডের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের ফ্ল্যাট দখল করে আছেন তাদের সসম্মানে উচ্ছেদ করার সুপারিশ করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। সেই সঙ্গে একজন মুক্তিযোদ্ধার নামে যেন একাধিক ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া না হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার দশম জাতীয় সংসদের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ২০তম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।

জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এ সভায় কমিটি সভাপতি এ বি তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক, আশেক উল্লাহ রফিক, স্বপন ভট্টাচার্য, বেগম কামরুল লায়লা জলি অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে জানানো হয়, মোহাম্মদপুরে গজনবী রোডের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে এমন অনেক আবাসিক রয়েছেন যারা মুক্তিযোদ্ধা নন। কিন্তু দুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের সুযোগ না দিয়ে তারা ফ্ল্যাটগুলো দখলে রেখেছেন। এদের উচ্ছেদ করে ফ্ল্যাটগুলো প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বিলি করার কথা বলেছে কমিটি।

এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা হয়েও যিনি নির্ধারিত সময়ে তার অজ্ঞতা বা অপারগতার জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারেননি তাদের উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটিতে আবেদনের সুযোগ দেওয়া এবং কমিটিকে সে আবেদন গ্রহণ করে যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষমতা প্রদানের একটি বিধান রাখার বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ কাউন্সিলের (জামুকা) কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও যুগোপযোগী করার জন্য একটি রিভিউ কমিটি গঠন করার পরামর্শ প্রদান করা হয়। এ ক্ষেত্রে আইন সংশোধন করার প্রয়োজন হলে সেটিকে সংশোধন করারও সুপারিশ করা হয়।

রাশিয়ার বোরোডিনো প্যানোরমার (Borodino Panorama) এর আদলে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে একটি ‘প্যানোরমা’ নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়কে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে মাগুরা জেলা সদরে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভকে রাইফেলের আদলে পরিবর্তিত করে এর অগ্রভাগে একটি জাতীয় পতাকা নির্মাণ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। মাগুরার স্থানীয় সংসদ সদস্যকে সভাপতি এবং ডিসিকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা এবং স্তম্ভের মেইনটেনেন্সের দায়িত্ব স্থানীয় সরকারকে দেওয়ার সুপারিশ করে কমিটি।