মুজাক্কির হত্যা: ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে পিবিআই, আলামত হস্তান্তর

প্রকাশিত

নোয়াখালী প্রতিনিধি –

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের গোলাগুলিতে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলার দায়িত্ব পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) পিবিআই এর নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সীর নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল ওই এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

পিবিআই এর তদন্তদলটি চাপরাশিরহাট পূর্ব বাজারের ঘটনাস্থল এবং নিহতের বাড়ি যান। তারা নিহতের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় লোকজন এবং সংঘর্ষের সময় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহিদুল হক রনি জানান, ঘটনার পর উদ্ধারকৃত মুজাক্কিরের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন, একটি ভিডিও ক্যামেরা (মেমোরি কার্ড ছাড়া), একটি মানিব্যাগ, একটি ওটিজি কর্ড, বাজারের সিসিটিভি ফুটেজসহ সব আলামত বুধবার পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পিবিআই নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, ‘মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে আমরা ঘটনস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলাটির প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা করব।’

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার চাপরাশিরহাট পূর্ব বাজারে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল ও শর্টগানের গুলি ছোড়ে। ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষের মুখে পড়ে গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক মুজাক্কিরসহ ৭-৮ জন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত ১০টা ৪৫মিনিটে ঢাকা মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান মুজাক্কির।

এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) নিহতের বাবা নোয়াব আলী মাস্টার বাদি হয়ে অজ্ঞাত একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওইদিন রাতেই মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়।