মুন্সীগঞ্জে জোড়া শিশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় বাবা-মা

প্রকাশিত

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ থেকে
পেটে জোড়া লাগানো যমজ বোন ইতি ও স্মৃতির চিকিৎসা ও বাঁচা-মরা নিয়ে অন্তহীন দুর্ভাবনায় পড়েছেন মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার দোগাছি গ্রামের মা তাসলিমা আক্তার ও বাবা আবু কালাম। সঠিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল ছুটে গেলেও কেউ দায়িত্ব নেননি। ব্যয় বহুল চিকিৎসার সামর্থ্য না থাকায় পেটে জোড়া লাগানো যমজ শিশুকে হাসপাতাল থেকে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের বাড়িতে নিয়ে আরো দুশ্চিন্তায় আছেন আবু কালাম দম্পতি। এই খবর পেয়ে ইতি ও স্মৃতির চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করার ঘোষণা দিয়েছেন, মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা।
গত ৫ই ডিসেম্বর ঢাকার কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকার আদ্‌দীন প্রাইভেট হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে জোড়া লাগা যমজ কন্যা সন্তান জন্ম দেয় তাসলিমা আক্তার। জন্মের পর জোড়া লাগা যমজ সন্তানের নাম রাখা হয় ইতি ও স্মৃতি। যমজ কন্যা সন্তান জন্মের পর মা তাসলিমা সুস্থ থাকলেও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও ধানমন্ডির একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ছুটে যান যমজ শিশুর বাবা আবু কালাম। সেখানকার চিকিৎসকরা জোড়া লাগানো যমজ বোন ইতি ও স্মৃতির মাথা দুইটি, আলাদা আলাদা দুইটি করে পা ও দুইটি করে হাত থাকলেও হার্ট ও লিভার একই (একটি) এবং এর চিকিৎসা ব্যয়বহুল জানিয়ে হাসপাতালে ভর্তি নিতে অপরাগতা জানায়। এদিকে, শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে ইতি ও স্মৃতিকে এনআইসিইউ করাতে ৭ই ডিসেম্বর ঢাকার ধোপখোলার আজগর আলী নামে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে তিনদিনে দেড়লাখ টাকা চিকিৎসার খরচ দিয়ে ৯ই ডিসেম্বর ইতি ও স্মৃতিকে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের বাড়িতে নিয়ে আসেন আবু কালাম দম্পতি। এই খবর জেনে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানার নির্দেশে শ্রীনগর উপজেলা ইউএনও মো. জাহিদুল ইসলাম এবং উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মাহফুজা পারভীন ১৪ই ডিসেম্বর জোড়া লাগানো যমজ বোনকে দেখতে ছুটে যান দোগাছির বাড়িতে। ইতি-স্মৃতির বাবা-মাকে সাহস দেন এবং জানিয়ে আসেন চিকিৎসার ব্যয়ভার তারা বহন করবেন। এদিকে, যমজ বোনের মধ্যে স্মৃতির তালুকাটা।
পেটে জোড়া লাগানো যমজ দুই বোনের মা ও বাবা বেশ দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। শিশু দুইটির এই ব্যয়বহুল চিকিৎসার দায়িত্বভার নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানালেন, ইতি ও স্মৃতির চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব তারা নিয়েছেন। সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা জানিয়েছেন, অতি দ্রুত এই যমজ বোনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সমাজসেবা অধিদপ্তরের ইউনিটে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হবে। চিকিৎসার ব্যয়ভার তার দপ্তর থেকে বহন করা হবে।

Be the first to write a comment.

Leave a Reply