যশোর সদর ও ঝিকরগাছায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৪ জন নিহত

প্রকাশিত

যশোর সদর ও ঝিকরগাছায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে ৪ জন নিহত হয়েছেন। যশোর-মাগুরা সড়কের নোঙরপুর দরগাহ (মাজার) এলাকায় শুক্রবার দিবাগত রাতে ও ঝিকরগাছা উপজেলার চাঁপাতলায় গতকাল শনিবার ভোররাতে এই ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটে। পুলিশের ভাষ্য, ‘নিহতরা ডাকাত। ডাকাতদের মধ্যেই বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটেছে।’ এদিকে দুটি ঘটনাস্থল থেকে তিনটি পিস্তল, গুলি ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল নিহতদের লাশ উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে নিহতদের পরিচয় এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। : যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক-সার্কেল নাঈমুর রহমান জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া দুটোর দিকে তারা খবর পান যশোর-মাগুরা সড়কের নোঙরপুর মাজার এলাকায় অজ্ঞাতনামা ডাকাতেরা গোলাগুলি করছে। এ খবর পেয়ে কোতয়ালি মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জন ডাকাত পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুজনকে  পড়ে থাকতে দেখে। এছাড়া সেখান থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। অপরদিকে কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের এসআই আসাদুজ্জামান জানান, ডাকাতদের মধ্যে গোলাগুলি হচ্ছে এমন খবর পেয়ে তিনিসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জন ডাকাত পালিয়ে যায়। এছাড়া সেখানে দুজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের একজনের বয়স ৪০ এবং অপরজনের বয়স ২৮ বছর হতে পারে। গুলিবিদ্ধ ওই দুজনকে উদ্ধার করে গতকাল শনিবার ভোর সোয়া পাঁচটার দিকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। : পুলিশ জানায়, নোঙরপুরে ঘটনাস্থল থেকে দুটি ওয়ান শুটারগান, ২ রাউন্ড গুলি, ৫টি গুলির খোসা, ১টি ছোরা, ১টি গাছিদা, ১টি হাসুয়া, ২টি রামদা, স্বর্ণের একটি চেইন ও দুই জোড়া কানের দুল, ৮টি স্যান্ডেল ও নাইলনের দড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। এসআই আসাদুজ্জামান জানান, স্থানীয় প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুই গ্রুপের অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জন ডাকাতের মধ্যে ডাকাতির মালামাল ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে ওই দুজন অজ্ঞাতনামা ডাকাত গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। : সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই ঘটনায় এসআই আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাতে স্থানীয় লোকজন নোঙরপুর দরগাহ (মাজার) এলাকায় কয়েকটি শব্দ শুনতে পেরেছেন। পরে তারা জানতে পেরেছেন সেখানে দুটি লাশ পড়ে রয়েছে। কিন্তু তারা নিহতদের শনাক্ত করতে পারেননি। : এলাকাবাসী জানান, এর আগে ১৩ নভেম্বর রাতে নোঙরপুর দরগাহ এলাকায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে এক ডাকাত নিহত হন। তার পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।       : অপরদিকে আমাদের ঝিকরগাছা (যশোর) সংবাদদাতা জানান, ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়নের চাঁপাতলা গ্রামের একটি পেঁপে ক্ষেত থেকে গতকাল শনিবার ভোরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অজ্ঞাতনামা ২ যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ম্যাগজিনসহ একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড পিস্তলের গুলি, একটি কার্তুজ, ৪টি গাছিদা, একটি চাইনিজ কুড়াল ও বেশ কয়েক জোড়া স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়। : ঝিকরগাছা থানা পুলিশের ওসি শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম সাংবাদিকদের জানান, গতকাল শনিবার ভোর সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশ হেল্প লাইন ( ৯৯৯) থেকে একটি ফোন আসে তাদের কাছে। অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, উপজেলার চাঁপাতলা-বর্নী মাঠের মধ্যে ব্যাপক বোমাবাজি ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল চাঁপাতলা গ্রামের মতিয়ার রহমানের পেঁপে ক্ষেত থেকে অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত লাশ দুটি ভোরেই যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। তবে নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এদের একজনের বয়স ৩০ বছর এবং আরেকজনের বয়স ২৬ বছর  হতে পারে। ওসি আরো জানান, ধারণা করা হচ্ছে, দু দল সন্ত্রাসী অথবা ডাকাতদের মধ্যে স্বার্থের দ্বন্দ্বের জের ধরে গোলাগুলিতে এই দুই যুবক নিহত হয়েছেন। : এদিকে সরেজমিনে গতকাল শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে গেলে চাঁপাতলা মাঠের কৃষক মৃত শামছুদ্দিনের ছেলে আব্দুল কাদের ও তার ভাইপো কাজী মাসুদুর রহমান তুহিন এবং লিয়াকত আলীর স্ত্রী করিমন বেগম বলেন, ভোর রাতের দিকে এই মাঠের মধ্যে ব্যাপক বোমাবাজি ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। এ সময় এলাকার মসজিদগুলো থেকে মাইকিং করাসহ পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ আসার পর এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে যান। তারা এ সময় পেঁপে ক্ষেতের মধ্যে দুটি লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। এর আগে গত ৩-৪ দিন ধরে রাতে এই মাঠের মধ্যে বোমা ও গুলির শব্দ শোনা গিয়েছিলো বলে তারা জানান। : উল্লেখ্য, গত ১৬ ডিসেম্বর দলীয় কোন্দলের জের ধরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে মিলন হোসেন (২৫) নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী খুন হন। এরপর ৩ জানুয়ারি দিনদুপুরে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেনের বড় ভাই আব্বাস মোল্লা খুন হন। এ ঘটনার পর  ৬ জানুয়ারি ভোরে আব্বাস মোল্লা হত্যা মামলার এজাহার নামীয় এক নম্বর আসামি পালসার বাবু র‌্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। পরদিন ৭ জানুয়ারি ভোরে রাজু সরদার নামে অপর একজনের গুলিবিদ্ধ লাশ স্বরণপুর মাঠের মধ্যে পাওয়া যায়। এ নিয়ে গত ৩৫ দিনে ঝিকরগাছায় ৬টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটলো। হত্যাকান্ডগুলোর পর ঝিকরগাছার মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন