যানজটে নাকাল জনজীবন টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্ত সড়ক

প্রকাশিত

নিউজ টঙ্গী  : ভোরের আলো ফুটার সাথে সাথে বাড়ে এই রাস্তার ব্যস্ততা। পিল পিল করে রাস্তায় মানুষ হাঁটছে। গার্মেন্টস কর্মী, শিল্প-কারখানার শ্রমিক, সাধারন পথচারি সবমিলিয়ে একটি জনস্ত্রোত। সকালের এই জনস্ত্রোত চলতে থাকে রাত অবধি। বাধছে ক্ষনে ক্ষনে যানজট। গন্তব্যে পৌঁছাতে লাগছে তিনগুন সময়। এমন নরক গুলজার অবস্থায় গাজীপুরের ব্যবসায়ী, নিত্য পথচারি, বাস মালিক, ট্রাক চালকসহ সকলের একটাই দাবি যেকোন মূল্যে এই যানজট নিরসন করা হোক। দূরত্ব মাত্র ১২ কিলোমিটারের। স্বাভাবিক ভাবেই এই স্বল্প দূরত্বটুকু পাড়ি দিতে সময় লাগার কথা ৩০-৩৫ মিনিট। কিন্তু নানা অনিয়ম, অবহেলা আর রাস্তার বেহাল দশায় ১২ কিলোমিটারের রাস্তাাটুকু অতিক্রম করতে সময় লাগে প্রায় তিন ঘন্টা। অথচ জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে ময়মনসিংহ ৮৭ কিলোমিটার দূরত্ব পেরোতে সময় লাগে মাত্র দেড় ঘন্টা। উভয় সড়কে টঙ্গী বাজার, স্টেশন রোড, কলেজ গেইট,বড়বাড়ি,বোর্ড বাজার,কুনিয়া,ভোগড়া বাইপাস পুবাইল,মাঝুখান,টিঅ্যান্ডটি, কালিগঞ্জ ও পূবাইল থেকে কা ন সেতু পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটারজুড়ে এ যানজটের সৃষ্টি হয়।
ঢাকার সঙ্গে যুক্ত সড়ক গুলোর মধ্যে অন্ততম মহাসড়কে এটি। প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটে মারাতœক দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা। এ সড়কটি ব্যবহারে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ চরম কষ্ট ভোগ করে গন্তব্যে পৌঁছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এ টঙ্গী-চৌরাস্তা পর্যন্ত ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে যানবাহন। এর মধ্যে আব্দুল্লাপুর টঙ্গী ব্রিজ থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়ক জুড়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এছাড়া ভোগড়া বাইপাস সড়কে প্রায় ১০ কিলোমিটার,চন্দ্রা মোড়, টঙ্গী-কালিগঞ্জ আ লিক মহাসড়কসহ আশপাশে অন্যান্য সড়কেও দেখা দেয় তীব্র যানজট। দিন দিন এ সড়ক গুলোতে যানজট প্রকোপ আকার ধারন করছে।
গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী ব্রিজ রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ন প্রবেশদ্বার। মফস্বল থেকে ঢাকায় প্রবেশের মিলনস্থল এটি। ঢাকা -টাঙ্গাইল মহাসড়ক, ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়ক এবং গাজীপুর সড়ক মিলিত হয়ে ঢাকায় প্রবেশ করেছে। এই মহাসড়ক দিয়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহের ৭ টি জেলা ও উত্তরবঙ্গের ২৩ জেলাসহ মোট ৩০ টি জেলার বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করেন। গাজীপুর ট্রাফিক বিভাগের মতে এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার যাত্রীবাহী বাস, শতশত ট্রাক, লরিসহ অসংখ্য ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে। এছাড়াও অর্থনীতির চালিকা শক্তি গার্মেন্টস শিল্পের শ্রমিকরাও যাতায়াতের জন্য এই সড়কটিই ব্যবহার করে থাকেন।
যানজটের যত কারণ: গাজীপুরে ২০টি পয়েন্টে বেশ কিছু কারণে হরহামেশা যানজট লেগেই থাকছে। উন্নয়নের নামে মাসের পর মাস চলছে খোঁড়াখুঁড়ি, ভাঙাচোরা রাস্তার অধিকাংশই বেদখলে,
গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি মোড়, ট্রাফিক ক্রসিংয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকা মানুষজন সীমাহীন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। বেশ কয়েকটি প্রধান রাস্তা এবং গলিপথে মাসের পর মাস ধরে চলছে উন্নয়নের নামে ধারাবাহিক খোঁড়াখুঁড়ি। যেখানে সেখানে পড়ে থাকছে জঞ্জাল ও নির্মাণ সামগ্রীর স্তুপ । ভাঙাচোরা, খানাখন্দকে পুরো রাস্তার একাংশ বেদখল, অর্ধেক রাস্তা জুড়ে থাকছে শত শত গাড়ির এলোপাতাড়ি পার্কিং। মধ্যরাস্তুায় বাস-মিনিবাস থামিয়েই চলে যাত্রী উঠানো-নামানো। এর মধ্যে আরো রয়েছে রাস্তার স্বল্পতা, টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত সাতটি পয়েন্টে বাস রেপিট ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের উন্নয়নকাজ, মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি চলাচল, মাত্রাতিরিক্ত আটোরিকশা, সড়কের অপ্রশস্থতা, বেপরোয়া বাস-মিনিবাস, যত্রতত্র ট্রাক স্ট্যান্ড, মিনিবাস, হিউম্যান হলারের
যেখানে সেখানে ইউটার্ন,জলাবদ্ধতা, ফুট ওভারব্রিজের অভাব, আবার থাকলেও তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে পথচারীদের অনীহা, রাস্তা জুড়ে বড় বড় আবর্জনার অস্থায়ী স্তুপ দুঃসহ যানজট সৃষ্টির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি পার্কিংবিহীন বহুতল ভবন, একমুখী রাস্তায় ডিভাইডার, যত্রতত্র সড়ক দখল করে কাঁচাবাজার গড়ে তোলা, মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া,সড়কের উন্নয়ন কাজ চলমান ও বর্ষা মৌসুমে সড়ক জুড়ে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় গাড়ি ধীরগতিতে চলাচল করতে গিয়ে যানজটকে দীর্ঘায়িত করছে।
এ সড়কে চলাচলকারী একাধিক যাত্রীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়,যানজটের মাত্রা বৃদ্ধি হওয়ায় চরম দূর্ভোগের মধ্যে দিযে চরাচল করতে হচ্ছে।এসময় যাত্রীদের কাছ থেকে নিধারিত বাড়ার চেয়েও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
যোগ দিয়েছে ৩০০ ট্রাফিক সহকারী : এদিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের যানজট নিরসনে দায়িত্ব পালনের জন্য জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষা ফাউন্ডেশন ৩০০ ট্রাফিক স্বেচ্ছাসেবক ট্রাফিক পুলিশের সহযোগি হয়ে কাজ করছেন।
এ ব্যাপারে গাজীপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার(ট্রাফিক) সালাহ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, রাস্তায় গাড়ি বেশি এবং গাড়ির তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি হওয়ার কারণেই নগরীতে যানজট সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অসংখ্য রিকশা ও খানা খন্দ,সেই সাথে জনগনের সচেতনতা বৃদ্ধি হলে যানজট অনেকটাই নিরশন হবে বলে জানান তিনি।