যোগাভ্যাস হিপ সার্কল

প্রকাশিত

একনাগাড়ে বসে থাকা, দাঁড়িয়ে থাকা বা ভুল ভঙ্গিতে বসে বা দাঁড়িয়ে কাজ করার ফলে হিপ জয়েন্টে চাপ পড়ে। ব্যায়াম না করলে পেশি শক্ত হয়ে ব্যথা আরো বাড়ে। হিপ সার্কল আসনটি অভ্যাস করলে ঊরু, নিতম্ব ও কোমরের পেশি উজ্জীবিত হয়

পদ্ধতি

১. শিরদাঁড়া সোজা করে মাটিতে দুই পা রেখে চেয়ারে সোজা হয়ে বসুন। মাথা ও ঘাড় সোজা ও টানটান রাখুন। দুই হাত থাকবে ঊরুর ওপর। চোখ বন্ধ করে মন শান্ত রেখে বসুন। এই হলো আসনটি শুরুর অবস্থান।

২. এবার চেয়ারের সামনের দিকে কিছুটা এগিয়ে আসুন। পিঠ, কোমর বা ঘাড় যেন বেঁকে না যায় খেয়াল রাখবেন। হাঁটু সোজা রেখে ডান পা সামনের দিকে বাড়িয়ে দিন যতটা সম্ভব।

৩. এ অবস্থানে ডান পা নিতম্ব থেকে ক্লক ওয়াইজ ধীরে ধীরে ঘোরান। বেশি স্ট্রেন না করে সাধ্য অনুযায়ী পা ঘোরাতে হবে নিতম্ব থেকে। আসন করার সময় শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে।

৪. ক্লক ওয়াইজ পাঁচ-সাতবার ডান পা ঘোরানো হলে শুরুর অবস্থানে ফিরে আসুন। এবার আবার ডান পা সোজা করে অ্যান্টি ক্লক ওয়াইজ ঘোরাতে হবে পাঁচ-সাতবার। দুই দিক মিলে এক রাউন্ড সম্পূর্ণ হলো।

৫. পা ঘোরানোর সময় খেয়াল রাখবেন, শুধু হাঁটু থেকে নয় হিপ থেকে সম্পূর্ণ পা ঘোরানো দরকার। ডান পায়ে ক্লক ওয়াইজ ও অ্যান্টি ক্লক ওয়াইজ মিলে এক রাউন্ড শেষ করুন। কয়েক সেকেন্ড বিশ্রাম নিয়ে দুই-তিন রাউন্ড অভ্যাস করতে হবে। (বেশি চাপ পড়লে বা একনাগাড়ে ব্যায়াম করতে কষ্ট হলে বিশ্রামের সময় বাড়িয়ে আসন অভ্যাস করবেন।)

৬. একইভাবে বাঁ পায়ে ক্লক ওয়াইজ ও অ্যান্টি ক্লক ওয়াইজ পর্যায়ক্রমে পাঁচ-সাতবার করে অভ্যাস করুন দুই-তিন রাউন্ড।

৭. দুই পায়ে অভ্যাস শেষ হলে প্রারম্ভিক অবস্থানে এসে চোখ বন্ধ করে বসে বিশ্রাম নিন।

৮. আসনটি অভ্যাস করার সময় ঊরুতে, কোমরে বা পিঠে ব্যথা না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

সতর্কতা

যাঁদের ঊরু ও হিপ জয়েন্টে আর্থ্রাইটিস বা চোটের জন্য প্রচণ্ড ব্যথা আছে তাঁরা এই আসনটি অভ্যাস করবেন না।