যৌতুকের আগুনে দগ্ধ লিমাকে বাঁচানো গেল না

প্রকাশিত

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার পাইকাড়া গ্রামে দগ্ধ লিমা পারভীন (১৯) খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ১৭ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে শনিবার রাতে মারা গেছে। অভিযোগ রয়েছে যৌতুকের দাবিতে লিমার শরীরে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে দেয় স্বামী, শাশুড়ি ও শ্বশুর।

নিহত লিমা পারভীনের চাচা জব্বার গাজী জানান, জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার বরেয়া গ্রামের আব্দুল গফফার গাজীর মেয়ে লিমা পারভীনের সঙ্গে প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে পার্শ্ববর্তী পাইকাড়া গ্রামের আকবর আলী সানার ছেলে আকরাম সানার (২৪) বিয়ে হয়।

বিয়ের পর ব্যবসার জন্য আকরাম ও তার আকবর সানা যৌতুক দাবি করলে বহু কষ্টে ৭৫ হাজার টাকা জোগাড় করে দেন লিমার বাবা আব্দুল গফফার। পরবর্তীতে মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার দাবিতে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি বিভিন্ন সময়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজসহ শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। একপর্যায়ে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন লিমা পারভীন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যস্থতায় নির্যাতন না করার শর্তে লিমাকে পুনরায় শ্বশুরবাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। কিছুদিন যেতে না যেতে আবারও নির্মম নির্যাতন শুরু করে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি।

একপর্যায়ে গত ১৭ জানুয়ারি দুপুরে যৌতুকের টাকার সূত্র ধরে শাশুড়ি জাহানারা খাতুন পুত্রবধূ লিমা পারভীনকে ঝাড়ু দিয়ে বেধম মারধর করে শরীরে পেট্রোল ঢেলে দেয়।

এ সময় ওই গৃহবধূর স্বামী আকরাম হোসেনের সহায়তায় দিয়াশলাই কাঠি জ্বেলে শরীরে আগুন লাগিয়ে দেন শ্বশুর আকবর সানা। গৃহবধূর চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে ঘরের দরজায় শিকল লাগিয়ে দিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যায় আকরাম, তার বাবা আকবর ও মা জাহানারা।

পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে আত্মরক্ষার আগেই শরীরে অধিকাংশ স্থান ঝলসে যায় লিমা পারভীনের। এলাকাবাসীর সহায়তায় তাকে নেওয়া হয় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে। সেখান থেকে মারাত্মক দগ্ধ ওই গৃহবধূকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ১৭ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর ৩ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাত ৯টার দিকে লিমা মারা যান।

এ ঘটনায় তার বাবা আব্দুল গফফার গাজী জামাতা আকরাম, বেয়াই আকবর সানা ও বেয়াইন জাহানারা খাতুনের বিরুদ্ধে কালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযানে শুরু করা হয়েছে।