রংপুরে আগুন তাপাতে গিয়ে ১০ জনের মৃত্যু, দগ্ধ ৫৫

প্রকাশিত

রংপুরে শীতের তীব্রতা অব্যাহত রয়েছে। এখানকার তাপমাত্রা ৭ থেকে ১০ ডিগ্রিতে ওঠানামা করছে। হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকায় মানুষ বিপাকে পড়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষেরা কাজকর্ম জোটাতে না পেরে পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে জীবন যাপন করছে।
অপরদিকে শীত নিবারণ করতে গিয়ে আগুন তাপানোর সময় অগ্নিদগ্ধ হয়ে রোববার পর্যন্ত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ১০ জন। দগ্ধ অবস্থায় ভর্তি আছে আরও ৪৫ জন। তাদের বেশিরভাগের শরীর ৩০ থেকে ৫০ ভাগ পুড়ে গেছে। আহত ও নিহতদের বাড়ি রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায়।

হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, যারা অগ্নিদগ্ধ হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন তারা সকলেই নিম্ন আয়ের মানুষ। আগুন তাপানোর সময় তাদের শরীরে সিন্থেটিক কাপড় থাকায় আগুন দ্রুত শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে যায়। তিনি বলেন, আগুন তাপানোর সময় দূরত্ব বজায় রেখে সকলের আগুন তাপানো উচিৎ।

রোববার বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আফরোজা খাতুন (৩৫) মারা যান। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. মারুফুল ইসলাম জানান, মৃত আফরোজা রংপুর নগরীর ১২নং ওয়ার্ড নজিরহাট এলাকার বেলাল হোসেনের স্ত্রী। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ২৬ বেডের বার্ন ইউনিটে রোগী আছে ৪৫ জন। দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেককে হাসপাতালের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এতে রোগীদের ইনফেকশন হতে পারে। এ মাসেই আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই নিয়ে ১০ জনের মৃত্যু হলো বলে জানান বার্ন ইউনিটের এ প্রধান চিকিৎসক।

এর আগে আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যায় নয়জন। এরা হলেন- ঠাকুরগাঁও শহরের থানাপাড়ার আঁখি আক্তার (৪৫), রংপুরের জুম্মাপাড়া পাকারমাথার রুমা খাতুন (৬৫), কাউনিয়া উপজেলার গোলাপী বেগম (৩০), লালমনিরহাট সদরের শাম্মী আখতার (২৭), পাটগ্রাম উপজেলার ফাতেমা বেগম (৩২), আলো বেগম (২২), নীলফামারী সদরের রেহেনা বেগম (২৫), রংপুর সিটি কর্পোরেশেনের মাহিগঞ্জের চাঁন মিয়ার স্ত্রী মনি বেগম (২৫) এবং নীলফামারী সদরের সোনারমের আমজাদ হোসেনের স্ত্রী মারুফা খাতুন (৩০)।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী জানান, রোববার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এখানে তাপমাত্রা কখনও বাড়ছে আবার কখনও কমছে বলেও জানান তিনি।