রংপুরে এ যাবৎকালের সেরা নির্বাচন হয়েছে

প্রকাশিত

ঢাকা : রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ শেষে এই নির্বাচনকে সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও অন্যতম সেরা নির্বাচন হিসেবে দাবি করেছে বেসরকারি সংগঠন ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডব্লিউজি)। শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানায় সংস্থাটি।

বাংলাদেশের ইতিহাসে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর মধ্যে রংপুর সিটি নির্বাচনকে অন্যতম সেরা নির্বাচন হিসেবে আখ্যায়িত করেন সংগঠনটির পরিচালক ড. মো. আব্দুল আলীম

ইডব্লিউজি জানায়, কোনো ধরণের সহিংসতা ও অনিয়ম ছাড়াই উৎসবের আমেজে রংপুরের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে যেসব তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে তার ভিত্তিতে এ যাবৎকালের সেরা স্থানীয় নির্বাচন হয়েছে এটি। সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার পরিচালক মো. আবদুল আলীম বলেন, এ নির্বাচন ছিল সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য।

তিনি বলেন, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা এবং নির্বাচনি প্রশাসনকে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে যথাযথ দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা গেছে। ভোটাররাও ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা যাবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ইতিবাচক বললেও এরজন্য আরও সময় নেয়ার পক্ষে মত দেন ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্য ও জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদ (জানিপপ) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ।

তিনি বলেন, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ১৩ মিনিটের মাথায় ফলাফল হাতে চলে এসেছে। এটি একটি ভালো লক্ষণ। তবে ইভিএম চালু করার আগে আরও সময় নেয়া উচিত। কারণ গ্রামের মানুষ এখনও অনেকে বিষয়টি সম্পর্কে অজ্ঞ।

রংপুর নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী নির্বাচনে ভোট প্রদানের হার শতকরা ৭০ ভাগ। কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের সময় ৮১ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন এবং সকালের দিকে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়। ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ মোট ১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৫টি ওয়ার্ডের ২৬টি কেন্দ্র ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করেছে। পর্যবেক্ষণকৃত ভোট কেন্দ্রেগুলোর ৯৩.৬ ভাগ ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট, ৯৫.১ ভাগ কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট ও ৯২.৯ ভাগ কেন্দ্রে জাতীয় পার্টি প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট ছিলেন।’

জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার চালুর আগে আরও সময় নেয়া উচিত বলে মনে করেন রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘গ্রামের মানুষ এখনো ইভিএম বিষয়টি সম্পর্কে অজ্ঞ। গ্রামে যারা কাজ করেন তাদের আঙুলের টিস্যুর কারণে ইভিএমে চাপ দিলে বরাবর পড়ে না। তখন দেখেছি টিস্যু পেপার দিয়ে মুছে দিলে আবার ঠিকই নেয়। তাই বলছি ব্রাজিলেও ইভিএম চালু করতে ২৬ বছর সময় নিয়েছে। আমাদেরও সময় নেয়া উচিত।’ইডাব্লিউজি ভোটকেন্দ্র খোলা-বন্ধ, ভোট গণনা কার্যক্রম, নারী ও প্রতিবন্ধী ভোটারদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণসহ সামগ্রিক কার্যক্রমের প্রশংসা করেছে।

Be the first to write a comment.

Leave a Reply