রইল বাকি তিন

প্রকাশিত

গত ৫ মাসে রাজধানীতে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন ১৪ জন। এদের মধ্যে ফিরে এসেছেন ভাগ্যবান ১১ জন। অন্যরাও হয়তো একদিন ফিরে আসবেন সেই আশাতেই নির্ঘুম অনিশ্চিত রাত পার করছে ৩টি পরিবার। যদিও ফিরে আসাদের কারো কাছ থেকেই জানা যায়নি ‘নিখোঁজ’ রহস্য। তাদের পরিবারও এ নিয়ে কথা বলতে নারাজ। আপনজন ফিরে এসেছে এটাকেই তারা পরম পাওয়া হিসেবে মনে করছেন।

এ দিকে ছয়দিন পার হলেও খোঁজ মেলেনি সর্বশেষ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ব্র্যাক ব্যাংকের শ্যামলী শাখার সিনিয়র অফিসার নাইমুল ইসলাম সৈকতের।

সৈকতসহ গত পাঁচ মাসে রহস্যজনকভাবে রাজধানী থেকে ১৪ জন নিখোঁজ হলেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১০ জনের সন্ধান পাওয়া গেছে। এখনো ফেরেননি কানাডার ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ইশরাক আহমেদ, ভিয়েতনামের সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান, মীর কাশেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার আরমান ও গোলাম আযমের ছেলে আব্দুল্লাহিল আমান আযমী।

পাঁচ মাসে নিখোঁজের মধ্যে যারা ফিরেছেন তারা হলেন- ব্যাংক এশিয়ার এভিপি শামীম আহমেদ, বিজেপির সভাপতি মিঠুন চৌধুরী ও দলটির কেন্দ্রীয় নেতা অসিত ঘোষ অসিত, বেলারুশের অনারারি কনস্যুলার অনিরুদ্ধ কুমার রায়, দক্ষিণ বনশ্রীর নকিয়া-সিমেন্সের সাবেক প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান আসাদ, অ্যাভেনটিস-স্যানোফির ফার্মাসিস্ট জামাল রহমান, শাহজাহানপুরের ফল ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন, গুলশানের প্রকাশক তানভীর ইয়াসিন করিম, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ড. মোবাশ্বার হাসান সিজার ও সাংবাদিক উৎপল দাস।

এদিকে গত মঙ্গলবার সকালে কর্মস্থল শ্যামলী থেকে গুলশানে যাওয়ার উদ্দেশে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন ব্র্যাক ব্যাংকের কর্মকর্তা সৈকত। এ ঘটনায় গত বুধবার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন সৈকতের স্ত্রী তামান্না খান তন্বী।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের এডিসি একেএম বাকী বিল্লাহ জানান, সৈকত কোন জায়গা থেকে নিখোঁজ হন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তার সর্বশেষ অবস্থান ছিল নিকেতন এলাকায়। এর পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। তার বিষয়ে একাধিক অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়গুলো দেখা হচ্ছে। সৈকতকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

স্বজনরা বলছেন, ব্যাংকের কাজে গত মঙ্গলবার সকালে শ্যামলী থেকে বের হন সৈকত। দুপুরে স্ত্রীর সঙ্গে তার কথা হয়। তখন তিনি গুলশানে যাওয়ার কথা জানান। বিকেল ৪টার দিকে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। মিরপুর-২ নম্বরে পরিবার নিয়ে থাকেন সৈকত। তার বাবার নাম নজরুল ইসলাম। গ্রামের বাড়ি বরিশালে।

সৈকতের স্ত্রী তন্বী জানান, তারা নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সৈকতের খোঁজে পুলিশ, র‌্যাব, ডিবি, সিআইডিসহ সবখানেই যোগাযোগ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ছাড়া তো আমাদের অন্য কোনো উপায় নেই। অনেকেই তো নিখোঁজ হয়েছেন, আবার কিছুদিন পর ফিরেও এসেছেন। সৈকতও হয়তো একসময় ফিলে আসবে, আমরা সবাই সেই আশাতেই বেঁচে আছি।

Be the first to write a comment.

Leave a Reply