রাজশাহীর আড়ানী পৌরসভার মেয়র মুক্তার সাময়িক বরখাস্ত

প্রকাশিত
রাজশাহী প্রতিনিধি –
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার মেয়র মুক্তার আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।সোমবার (১২ জুলাই) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যকে বিতর্কিত এই মেয়রকে বরখাস্তের আদেশ দেয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলাধীন আড়ানী পৌর মেয়র মাে. মুক্তার আলী এর বিরুদ্ধে বাঘা থানায়
০৭/০৭/২০২১ খ্রি. তারিখে  পেনাল কোড, ১৮৬০ এর ১৪৩/৪৪৮/৩২৫/৩২৬/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৪২৭/৩৮০৬ ধারায় ৭ নং মামলা আর্মস এ্যাক্ট, ১৮৭৮ এর ১৯(এ)/১৯(এফ) ধারায় ৮নং মামলা এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬ (১), ১০ (ক)/৩৬ (১), ১৯ (ক)/৩৬(১), ৮(ক)/৪১ ধারায় ৯ নং মামলা দায়ের করা হয়েছে। যেহেতু উল্লেখিত অপরাধ স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩২ এর উপ-ধারা (১) এর (খ) ও (ঘ) অনুযায়ী মেয়রকে অপসারণযোগ্য অপরাধ।
যেহেতু স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩১(১) অনুয়ায়ী যে ক্ষেয়ে কোন পৌরসভার মেয়র বা কোন কাউন্সিলর অপসারণের কার্যক্রম আরম্ভ করা হইয়াছে অথবা তাহার বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলায় অভিযােগপত্র আদালত কর্তৃক গৃহীত হইয়াছে, সেই ক্ষেত্রে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় মেয়র অথবা কাউন্সিলর কর্তৃক  ক্ষমতা প্রয়োগ পৌরসভার স্বার্থের পরিপন্থি অথবা প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ সমীচীন না হইলে, সরকার লিখিত আদেশের মাধ্যমে মেয়র অথবা কাউন্সিলর-কে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারিবে।
যেহেতু রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার মেয়র মাে. মুক্তার আলীর বিরুদ্ধে  বাঘা থানায় ০৭/০৭/২০২১ ইং তারিখে পেনাল কোড, ১৮৬০ এর ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৪২৭/৩৮০/৫০৬ ধারায়, ৭নং মামলা, আর্মস এ্যাক্ট, ১৮৭৮ এর ১৯(এ)/১৯(এফ) ধারায় ৮নং মামলা এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬ (১), ১০ (ক)/৩৬ (১), ১৯ (ক)/৩৬(১), ৮(ক)/৪১ ধারায় ৯নং মামলা দায়ের হওয়ায় এরুপ অপরাধমূলক কার্যক্রম পৌর পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থী মর্মে সরকার মনে করে, সেহেতু, স্থানীয় সরকার (স্টেরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩১(১) অনুয়ায়ী রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলাধীন আড়ানী পৌরসভার মেয়র মাে. মুক্তার আলী-কে আড়ানী পৌরসভার মেয়র পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলাে।
এ আদেশ জনস্বার্থে জারি করা হলো এবং অবিলম্বে কার্যকর করা হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (০৬ জুলাই) আড়ানী পৌর বাজারে এক কলেজ শিক্ষককে মারধর করেন মেয়র মুক্তার। এ নিয়ে ওই দিন রাতেই ভুক্তভোগী শিক্ষক মামলা করেন। পরে রাতে তিনটার দিকে পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৯৪ লাখ টাকা, সই করা চেক, আগ্নেয়াস্ত্র এবং মাদক উদ্ধার করে। আটক করা হয় তার স্ত্রী এবং দুই ভাতিজাকে। পরে শুক্রবার (০৯ জুলাই) ভোরে পাবনার পাকশি এলাকা থেকে মুক্তার আলী ও তার শ্যালককে গ্রেফতার করা হয়। এরপর মেয়রের বাড়িতে অভিযান চালানো হলে আবারও মেলে এক লাখ ৩২ হাজার টাকা। উদ্ধার করা হয় দেশীয় অস্ত্র এবং মাদক।