রাজশাহীর তানোরে নারীকে জবাই করে হত্যা

প্রকাশিত
রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরে স্বামী পরিত্যক্তা জোহরা বেগম (৪৩) নামের নারীকে নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যার ঘটনায় থানায় হত্যা মামালা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহতের ভাই মোজাফর হোসেন বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের অভিযুক্ত করে হত্যা মামালা করেন।
এর আগে গত বুধবার রাত পৌনে ৮টার দিকে তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কচুয়া জিতপুর নামক গ্রামে নৃশংসভাবে জবাই করে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত জোহরা বেগম জিতপুর গ্রামের মৃত: তোফির উদ্দীনের মেয়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ধারালো ছুরি ও হাঁসুয়া উদ্ধার করেন। সকালে জোহরার লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
বুধবার রাতে নৃশংস এ ঘটনার সময় জোহরার ছেলে জাহাঙ্গীরের স্ত্রী রুমি বেগমকে (২০) ও তিন বছরের কন্যা শিশু জুঁইকে জখম হয়। আহত অবস্থায় পুলিশ তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। রাতে পুলিশের উদ্ধতন কর্মকর্তা ও র‌্যাব-৫ এর একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
প্রতিবেশী সোহেল রানা নামের এক যুবক জানান, রাত পৌনে নয়টার দিকে তিনি হঠাৎ চিৎকারের শব্দ শুনে জোহরা বেগমের বাড়িতে যান। এসময় তিনি বাড়ির ঘরের বাইরে জোহরার ছেলে বউ এবং নাতনী জুঁইকে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর ঘরের মধ্যে গিয়ে জোহরাকে গলা কাটা অবস্থায় অচেতনভাবে পড়ে থাকতে দেখেন।
এ অবস্থায় সোহেল চিৎকার দিয়ে আশে-পাশের লোকজনকে জড়ো করেন। তবে কারা কি কারণে জোহরাকে হত্যা করে তার ছেলে বউ ও নাতনীকে কুপিয়ে জখম করে গেছে-তা কেউ বলতে পারছে না।
পাঁচন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, হত্যাকারীরা ঠান্ডা মাথায় তাদের কাজ চালিয়েছে। আমরা এ হত্যা কান্ডের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ নিয়ে তানোর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম বলেন, হত্যার ধরণ দেখে মনে হচ্ছে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তবে হত্যার আগে ওই নারীর মাথায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। তাকে হত্যার সময় উদ্ধার করতে গেলে ছেলে বউ রুমিকেও হয়তো কপিয়ে জখম করে দুস্কৃতিকারীরা। এসময় রুমির শিশু মেয়েটিকেও জখম করা হয়।
ওসি জানান, প্রায় ২০ বছর আগে জোহরার স্বামী হেলালের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পরে তিনি ছেলেকে নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করতেন। ছেলে জাহাঙ্গীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ পূবালী ব্যাংকের নাইট গার্ড পদে চাকরি করেন। তার স্ত্রী রুমি এবং একমাত্র মেয়ে জুঁই মা জোহরার সঙ্গে ওই বাড়িতে থাকেন। সবদিক বিবেচনা করে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।