রাবিতে দুই বিভাগের সংঘর্ষ, ৩ শিক্ষকসহ আহত ১১

প্রকাশিত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের সংঘর্ষের ঘটনায় তিন শিক্ষকসহ এগারো শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। রবিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেডিয়ামে খেলা শেষে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল্যাহ আল মারুফ, প্রভাষক জিহাদ আহমেদ, শিক্ষার্থী আলমগীর, শান্ত, কিবরিয়া, তারেক ও আশিকুর রহমান, ফিন্যান্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের মেহেদি হাসান, মারুফ ও রিফাত। তাদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুপুরে ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা এবং ফিন্যান্স বিভাগের খেলা  আন্তঃবিভাগ টুর্নামেন্টের সেমি ফাইনাল খেলা চলছিল। খেলায় ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ জিতে যাওয়ায় তারা আনন্দ উল্লাস করছিল। এ সময় দুই দলের খেলোয়াররা একে অপরকে তিরস্কারমূলক কথাবার্তা বলে। পরে শিক্ষকরা মাঠ থেকে বের হয়ে আসলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও ফিন্যান্স বিভাগের রিফাতসহ কয়েকজন ভূগোল বিভাগের শিক্ষার্থীদের মারধর শুরু করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। তাদের আটকাতে গেলে ওই তিন শিক্ষককে মারধর করে ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের আহত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ‘খেলা চলাকালীন আমাদের সঙ্গে ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থীদের একটু ঝামেলা হয়। খেলা শেষ করে শান্তভাবে আমরা মাঠ থেকে বের হয়ে আসছিলাম। এ সময় রিফাতসহ কয়েকজন ‘তোদের কিসের এত আনন্দ’ বলে আমাদের মারধর শুরু করে। এ সময় স্যাররা তাদের আটকাতে গেলে তাদেরও মারধর করে ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থীরা।’
আহত ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘খেলা নিয়ে এ ধরনের ঘটনা একেবারেই অপ্রত্যাশিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের থেকে এ ধরনের কিছু আশা করা যায় না।’
ফিন্যান্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আশিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের তিন শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। ওরা হাসপাতালে আছে। আমরা প্রশাসনকে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দেব।’
জানতে চাইলে প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথেই আমলে নিয়েছে। দুই বিভাগের সাথে কথা বলে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে