‘রায়ের ওপর নির্ভর করছে রাজনীতি মোড়’

প্রকাশিত

বিশেষ.প্রতিবেদক :বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার রায়ের ওপর দেশের ভবিষ্যত রাজনৈতিক পরিস্থিতি নির্ভর করছে বলে সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘৮ ফেব্রুয়ারি কী হয় তার ওপর নির্ভর করবে রাজনীতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসে এবং কোন দিকে নতুন মোড় নেবে। রায়ের ওপর নির্ভর করছে আগামী দিনের রাজনীতি আগামী দিনের নির্বাচন।’

‘ভবিষ্যতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন  খালেদা জিয়া, বিএনপিকে বাইরে রেখে, জেলে রেখে এই দেশের জনগণ কোনো নির্বাচন হতে দেবে না। খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপিকে ছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে না এবং হতে দেওয়া হবে না।’

খালেদা জিয়াকে মামলায় অন‌্যায়ভাবে কোন রায় চাপিয়ে দেওয়া হলে সেটি ‘জনগণের সেন্টিমেন্টের ওপর রায় দেওয়া হবে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ওই রায় তারা মানবে না।

‘নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনে সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক আন্দোলন’ নামের একটি সংগঠন।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘অন্যায্য রায় হলে সেটি দেশের জনগণের খালেদা জিয়ার প্রতি যে সমর্থন, সে সমর্থনের বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হবে। তিনি যে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে, সেই গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হবে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অন‌্যায়ভাবে রায় দেওয়া হলে জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হবে।’

এক-এগারোর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তা থেকে শিক্ষা নিতে ক্ষমতাসীনদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই নীতি নির্ধারক বলেন, ‘বর্তমান সরকারকে স্মরণ করে দিতে চাই, যারা মাইনাস টু চিন্তা করেছিল তারা কিন্তু এখনো আছে। তারা ওৎ পেতে বসে আছে। আপনাকে দিয়ে মাইনাস ওয়ান (খালেদা জিয়া) করে পরবর্তীতে তারা আপনাকেও (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) মাইনাস করবে। এভাবে মাইনাস টু ফর্মুলা বাস্তবায়ন করতে চায় তারা।’

বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে খালেদা জিয়াকে মাইনাস করা যাবে না জানিয়ে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘স্মরণ করে দিতে চাই এক-এগারোর জরুরি আইনে মাইনাস টু করার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্র ঘোষণা করে পদক্ষেপ নিয়েছিল। জনগণ এবং তৃণমূল নেতা-কর্মীদের দৃঢ়তার জন্য মাইনাস টু করা সম্ভব হয়নি।’

‘যারা মাইনাস টু ফর্মুলা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছিল তারা সুকৌশলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে মাইনাস ওয়ান করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ভয়ঙ্কর : ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮’ উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আইনে যে সংশোধন আনা হয়েছে তা ৫৭ ধারা থেকেও আরো ভয়ঙ্কর।

তিনি বলেন, অনুসন্ধানী কিছু প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদেরকে কিছু কাজ গোপনে করতে হয়। এখান তা করা যাবে না।

‘আমরা মনে করি যেহেতু সরকার অলিখিত বাকশালের পথে হাটছে, মুক্তমনের ব্যক্তিদের মত প্রকাশের শক্তিকে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করার জন্য এই আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’