রোহিঙ্গাদের লাশ পোড়ানো হয়েছিল এসিড দিয়ে

প্রকাশিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাখাইন রাজ্যে গণকবর দেওয়া রোহিঙ্গাদের লাশ যাতে চেনা না যায় সেজন্য মৃতদেহগুলোর মুখ অ্যাসিড দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) তাদের বিশেষ অনুসন্ধান প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

মুঠোফোনে ধারণ করা ভিডিওর ভিত্তিতে তৈরি করা প্রতিবেদনটিতে বল হয়েছে, কবরগুলোতে থাকা মৃতদেহগুলোর মধ্যে কাদার সঙ্গে মিশে নীল-সবুজ অ্যাসিডের চিহ্ন রয়েছে। কবর দেওয়ার আগে মৃতদেহগুলোর মাথা ও হাত-পা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল।

রাখাইনের বুথিডাউং শহর থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা এপিকে জানিয়েছে, গু দার পিন গ্রামে কমপক্ষে পাঁচটি গণকবর রয়েছে। তারা ভাগ্যক্রমে সেখান থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে।

গ্রামবাসী জানিয়েছে, গণহত্যার আগে সেনাদের তারা ১২ কনটেইনার অ্যাসিড কিনতে দেখেছেন। পূর্বপরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই তারা এগুলো কিনেছিল।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গণহত্যার এই নতুন তথ্য প্রকাশের পর বলেছে, ‘এটা অত্যন্ত গভীর সমস্যা’। ঘটনার তদন্তে রাখাইনে স্বাধীন তদন্ত দলের প্রবেশ করতে দিয়ে মিয়ানমারের সরকারের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

মিয়ানমারে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংহি লি বলেছেন, রাখাইনে নৃশংষার যে পাহাড়তুল্য প্রমাণ পাওয় গেছে তাতে গণহত্যার চিহ্ন রয়েছে। গণহত্যায় জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করার জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।