র‍্যাবের অভিযানে বোর্ডবাজার এলাকা থেকে জেএমবি’র সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার

প্রকাশিত

শেখ রাজীব হাসান আকাশ,চ্যানেল সিক্সঃ র‍্যাবের বিশেষ অভিযানে গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকা থেকে রাশেদ ওরফে রাফিউল ইসলাম লিখন (২০) নামে জেএমবি’র এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোয়েন্দাসূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাত ১১টার দিকে র‌্যাব-২ এর একটি আভিযানিক দল বোর্ডবাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

প্রাথমিক ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে রাসেদ জানায়, সে জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করছে।

র‌্যাব সূত্র জানায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও শিল্পা ল এলাকার সোনালী ব্যাংক মোড় হতে জেএমবি’র দুইজন সক্রিয় সদস্যকে দেশীয় অস্ত্র, জঙ্গিবাদী বই এবং বৈদেশিক মুদ্রাসহ গ্রেফতার করা হয়। ওই আসামীদের দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করার পর র‌্যাব-২ জানতে পারে যে, গাজীপুরের বোর্ড বাজার এলাকায় অপর এজাহারনামীয় আসামী রাশেদ ওরফে মোঃ রাফিউল ইসলাম লিখন অবস্থান করছে। পরে গায়েন্দাসূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাবের আভিযানিক দল উক্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সোমবার রাত ১১টার দিকে তাকে গাজীপুরের বোর্ড বাজার এলাকা হতে গ্রেফতার করে রাশেদ ওরফে রাফিউল ইসলাম লিখনকে। গ্রেফতারকৃত রাশেদ বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর উপজেলার সোনাইদিঘী গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে।

র‌্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামী রাশেদ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি’র একজন সক্রিয় সদস্য। সে ছাত্র জীবনে মাদ্রাসায় লেখাপড়ার পাশাপাশি উগ্রপন্থী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিল। একপর্যায়ে তার জেএমবি সদস্যদের সাথে সু-সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং সে নিজেও জঙ্গি কার্যক্রমে উদ্ধুদ্ধ হয়ে সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়। নিয়মিতভাবে ইয়ানত (চাঁদা) দেয়ার মাধ্যমে নিজেকে সংগঠনের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

গ্রেফতারকৃত রাশেদ আরও জানায়, সে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে জনৈক ইসমাইল এর সহচার্যে আসে এবং ইসমাইল তাকে ধর্মীয় উগ্রবাদ এর দাওয়াত ও জিহাদের কথা উল্লেখ করে তাকে জঙ্গিবাদে উদ্ধুদ্ধ করে তোলে। যার ফলে সে সক্রিয় জঙ্গি হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলে। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে জনৈক রাসেল ও সোহেল তার বগুড়ার শাহজাহানপুরের বাসায় এসে তাকে জঙ্গিবাদে উদ্ধুদ্ধ করে, কোরআন ও হাদীসের অপব্যাখ্যা করে এবং মেমরি কার্ডের মাধ্যমে ওয়াজ মাহফিল ও জঙ্গি মতাদর্শী বিভিন্ন ভিডিও প্রদান করে এবং এগুলো প্রতিনিয়ত দেখতে বলে। এছাড়াও শারিরীকভাবে সক্ষমতা অর্জনের জন্য তারা তাকে বিভিন্ন কলা কৌশল শেখান, যাতে যে কোন উদ্বুত পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারে।