লক্ষ্মীপুরে ঔষুধ প্রশাসনের নজরদারীতে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে ফার্মেসী গুলোতে

প্রকাশিত

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: ঔষুধ প্রশাসন লক্ষ্মীপুরের নজরদারীতে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে জেলা শহর ও গ্রামের ফার্মেসী গুলোতে। জানা যায়, বিগত সময়ে লক্ষ্মীপুর জেলায় ঔষুধ প্রশাসনের কোন অফিস ছিলনা। এ কারনে স্থানীয় বাজার গুলোতে ফার্মেসী গুলোতে কোন শৃঙ্খলা ছিলনা।

যে যার মতো করে চালাতো ফার্মেসী ব্যবসা। বিগত ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে লক্ষ্মীপুরে ড্রাগ সুপার হিসেবে যোগদান করেন মো: ফজলুল হক। তিনি ফার্মেসী গুলোর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন গ্রাম গঞ্জে ছুটে যান।

ফার্মেসী মালিকদের বিভিন্ন আইন সম্পর্কে অবহিত করেন। সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি ও নকল এবং ভেজাল ঔষুধ বিক্রি করা থেকে বিরত থাকার জন্য বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করে। নির্দেশনা পর পরই ঔষুধ ব্যবসায়ীরা নকল, ভেজাল ও মেয়াদ উর্ত্তীণ ঔষুধ বিক্রি থেকে বিরত থাকে।

জেলা ঔষুধ প্রশাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলা কার্যালয় চালু হওয়ার পর বিগত ৩২ মাসে ড্রাগ সুপার জেলার ১৫০ টি বাজার পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া জেলার মোট ১৮৭৪ টি ফার্মেসী পরিদর্শন করেন। সরকারী নিয়ম ভঙ্গ করায় ও লাইসেন্স বিহীন ব্যবসা পরিচালনা করায় মোট ৬১ টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়।

এতে ৩ লাখ ১২ হাজার ৬১৪ টাকা জরিমানা আদায় করে অর্থ সরকারী কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। এসময় ৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত তাদের কারাগারে প্রেরণ করে পুলিশ। ২ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কে সিলগালা করে দেওয়া হয়।

এ ছাড়া নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১৩ টি মামলা দায়ের করে। দোকান পরিদর্শন করে নিয়ম বর্হিভৃত ব্যবসা করায় ৫৮১ টি নোটিস প্রেরণ করা হয়। এ ছাড়া মেয়াদ উত্তীর্ণ নকল ও ভেজাল এবং এণ্টিবায়োটিক বিষয়ক সচেতনতা সভা করা হয় মোট ১১ টি।

সম্প্রতি দেশ ব্যাপি আলোচিত ডেঙ্গু রোগের ওষুধ মূল্য বৃদ্ধি না করার বিষয়ে মতবিনিময় সভা করা হয় জেলায় ৩ টি। এসময় জেলায় মডেল মেডিসিন শপ এর ৬০৫ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কে লাইসেন্স প্রদান করা হয়। স্থানীয় সূত্র গুলো জানায়, লক্ষ্মীপুর ওষুধ প্রশাসনের নজরধারী থাকায় জেলায় নকল, ভেজাল ও মেয়াদ উর্ত্তীন ওষুধ বিক্রি কমে গেছে।

এ ছাড়া অনেক পল্লী চিকিৎসক ফার্মাসিষ্ট কোর্স সমপন্ন করে ড্রাগ লাইসেন্স নিয়ে নিয়ম কানুন মেনে ফার্মেসী ব্যবসা পরিচালনা করছে।

লক্ষ্মীপুরের ড্রাগ সুপার মো: ফজলুল হক বলেন, ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ওষুধ প্রশাসন লক্ষ্মীপুরে কার্যক্রম শুরু করে। প্রায় ৩ বছরে লোকবল সল্পতার মধ্যেও ফার্মেসী গুলো শৃঙ্খলার মধ্যে আনার চেষ্টা করেছি।
ইতিমধ্যে জেলায় নকল ও মেয়াদ উর্ত্তীন এবং ভেজাল ওষুধ বিক্রি অনেক কমে গেছে। পাশাপাশি ফার্মাসিষ্ট কোর্স করে যাতে পল্লী চিকিৎসকগণ গ্রাম-গঞ্জে ফার্মেসী ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে সেই লক্ষ্যে তাদেরকে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সকলের সহযোগীতা পেলে ওষুধ প্রশাসন জেলায় আরও কাজ করতে সহজ হবে।