লক্ষ্মীপুরে বিদেশ ফেরত ৩৮০২, হোম কোয়ারেন্টাইনে মাত্র ৫৬৮

প্রকাশিত

 

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুর বিভিন্ন এলাকায় শনিবার বিকেল পর্যন্ত ৫৬৮ জন প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টাইনের রাখা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী ১ মার্চ- থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত জেলায় ৩৮০২ জন বিদেশ থেকে লক্ষ্মীপুরে এসেছে। গতকাল পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে ৪৭৩ ছিল। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে বিদেশ ফেরত ৯৫ জন রাখা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে অধিকাংশ বিদেশ ফেরত যুবক নিয়ম নীতি মা মেনে স্বাভাবিক ভাবে এলাকায় চলাফেরা করছে। সরকারের নির্দেশনা মানছেনা তারা। অনেক কে বাড়িতে পাওয়া যাচ্ছেনা।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবদুল গফফার রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের জানান, বিদেশ ফেরত ব্যাক্তিকে পরিবার ও দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে তাদেরকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।
এ পর্যন্ত ৩৮০২ জন প্রবাসী প্রবেশ করেছেন।

তাদের জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগীতায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অপর দিকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তিকৃত ৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলে ৩ জনের শরীরে করোনা জীবাণু পাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বাকী একজনের পরীক্ষার রির্পোট এখনো আসেনি।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিগত দুই সপ্তাহের মধ্যে বিদেশ ফেরত কেউ থাকলে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিয়ে কোয়ারেন্টাইনের পদ্ধতি, করণীয় সম্পর্কে জানতে ১৬২৬৩ এবং ৩৩৩ নাম্বারে ফোন করতে বলা হয়েছে।

এ দিকে করোনা সচেতনতায় লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে জ্বর, সর্দি, কাশি রোগীদের জন্য আউট ডোরে সম্পূর্ণ আলাদা টিকেট কাউন্টার করা হয়েছে। এ সব রোগীদের জন্য আলাদা রুমে চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হয়েছে। চিকিৎসকরা তিন ফুট দূরে বসিয়ে রোগীদের হিষ্ট্রি, অবস্থা জানছেন ও পরামর্শ দিচ্ছেন।

বিদেশ ফেরত এইসব লোক জ্বর, সর্দি, কাশিতে আক্রান্ত অবস্থায় চিকিৎসকের কাছে আসার পর তাদের চিহ্নিত করা হয়। সন্দেহজনক হিসেবে তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা কোন ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ পাওয়া যায়নি।
তারা সবাই সুস্থ আছেন।

সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: আনোয়ার হোসেন সাংবাদিদের বলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও এমন সন্দেহজনক রোগীদের কোয়ারেন্টাইনে রাখার জন্য লক্ষ্মীপুর জেলার চারটি হাসপাতালে ১০০টি বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পুলিশ সুপার ড. এইচ. এম কামরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, প্রত্যেক থানার ওসিদের তাদের আওতাধীন এলাকা সমূহে বিদেশ ফেরত খুঁজে বের করে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ কঠোর ভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনসাধারণ কে করোনা মোকাবেলায় সর্তক থাকার জন্য পুলিশ প্রচারপত্র ও মাইকিং করে যাচ্ছে।

জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগীতা নিয়ে বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৭ জন প্রবাসী আইন অমান্য করায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাদের জরিমানা আদায় করে সর্তক করা হয়েছে।
অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ মানুষকে সচেনতন করতে সকল ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সকল সভা, সমাবেশ, ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।