লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে পেঁয়াজ, রসুন, আদাসহ সবিজির দাম

প্রকাশিত

মেহেরপুর প্রতিনিধি-
পবিত্র রমজানের শুরুতেই বাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে পেঁয়াজ, রসুন, আদাসহ সবজির দাম। এক সপ্তাহ আগে যে পেঁয়াজের কেজি প্রতি পাইকারী দাম ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা সেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। ১শত ৫০ থেকে ২শত টাকার আদা এখন ৩শত ৫০ থেকে ৪শত টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আর ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১শত ১০ থেকে ১শত ২০ টাকা দরে। তবে ভোক্তাদের খুচরা বাজার থেকে এসব পণ্য কিনতে গিয়ে প্রতি কেজিতে আরও ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি গুণতে হচ্ছে।
এখন পেঁয়াজ, রসুন, আদার ভরা মৌসুম। তারপরও দাম কেন বাড়ছে তা জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা জানায়, করোনা ভাইরাসের কারণে সাধারণ ছুটি থাকায় পণ্য সরবাহে ঘাটতি হচ্ছে। তাই প্রতিনিয়ত দাম বাড়ছে। তবে কৃষকের বাজারজাত করা সবজির দাম অনেকটা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানায় তারা। বিভিন্ন ধরণের প্রতি কেজি সবজি এখন ১০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
কাঁচা বাজারে কথা হয় কলেজ শিক্ষক ফাররুখ আহমেদের সাথে। তিনি বলেন, তার বাড়ি কাঁচা বাজারের সাথেই। ক’দিন থেকে পেঁয়াজ, রসুন, আদার দাম প্রতিদিনই কিছু না কিছু বাড়ছে। এক সপ্তাহ আগেও তিনি পেঁয়াজ কিনেছেন ৩০ থেকে ৩২ টাকা কেজি দরে অথচ আজ তার দাম ৫২ থেকে ৫৫ টাকা। ৭০ থেকে ৮০ টাকার রসুন বিক্রি হচ্ছে ১শত ১০ থেকে ১শত ২০ টায়। বাজারে সরবরাহ আছে অথচ কেন এত দাম বাড়ছে তা আল্লাহ্ আর ব্যবসায়ীরাই ভাল জানে। এভাবে জিনিসের দাম বাড়তে থাকলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের চরম দূর্ভোগের মধ্যে পড়বে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস আ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি রফিকুল আলম জানান, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহণ ও বিক্রি বিধিনিষেধের আওতামুক্ত রয়েছে। যার কারণে সরবরাহের অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়ানোর যুক্তি নেই। এটা মুনাফা লোভী ব্যবসায়ীদের স্বেচ্ছাচারিতা। সরবরাহের ঘাটতি থাকলে মানুষ বাজারে পণ্য পাবে না। কিন্তু দাম বেশি দিলেই পণ্য মিলছে। কোন ক্রেতা না পেয়ে ফিরছে না। এটা ব্যবসায়ীদের কারসাজি ছাড়া কিছুই নয়। এ বিষয়ে সরকারি তদারকি জোরদার করতে হবে এবং জেলা বাজার মনিটরিং টাস্ক ফোর্সকে কাজে লাগাতে হবে।